আদানি চুক্তিতে বাড়তি খরচ
ভারতের করের বোঝা বইছে বাংলাদেশ!
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 7
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হচ্ছে। সরকারের নিযুক্ত উচ্চপর্যায়ের ন্যাশনাল রিভিউ কমিটির (এনআরসি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ। এমনকি ভারতীয় করপোরেট করের দায়ও এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর চাপানো হয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম নিকটতম বেসরকারি প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বাস্তবসম্মত মূল্যের সঙ্গে তুলনা করলে এই বাড়তি খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এনআরসি জানিয়েছে, এই মূল্য বৈষম্যের পেছনে চুক্তির কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দায়ী। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে কমিটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে প্রবেশ করাই এই সংকটের মূল কারণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ দেশের করপোরেট কর নিজেরাই বহন করে। কিন্তু আদানির সঙ্গে করা চুক্তিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ভারতের করপোরেট করের একটি অংশ বাংলাদেশের ওপর চাপানো হয়েছে, যা চুক্তিটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
এনআরসি জানায়, বিদ্যুৎ আমদানির অন্যান্য চুক্তির তুলনায় আদানি প্রকল্পেই ব্যয় বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি এই কেন্দ্র ‘অতিরিক্ত দামে’ কয়লা ব্যবহার করছে, যার প্রভাব সরাসরি বিদ্যুতের দামে পড়ছে।
বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশেরও বেশি আসে এই কেন্দ্র থেকে। ফলে এই একটি চুক্তির কারণে সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কাঠামোও চাপে পড়ছে।
অন্যদিকে, আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, এনআরসি তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি এবং প্রতিবেদনের কপি দেয়নি। তাই তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে পারছে না।
কোম্পানিটি আরও দাবি করেছে, বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যেখানে অন্য অনেক উৎপাদক সরবরাহ কমিয়েছে বা বন্ধ করেছে। তবে এই বকেয়া পরিশোধে দেরি হলে ভবিষ্যতে সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
এনআরসি প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিকর শর্তগুলো নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আদানি চুক্তি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতির প্রতিফলন। সময়মতো এই চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন না করলে ভবিষ্যতে ভর্তুকির চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা এই চুক্তি এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি নিরাপত্তার নয়, বরং আর্থিক স্থিতিশীলতারও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।































