ভারতে এক দিনে ৫৫০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 91
ভারতের আকাশপথে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এক দিনে ৫৫০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে—যা গত দুই দশকে এমন ঘটনার সর্বোচ্চ উদাহরণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিলের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে; ক্রু সদস্যের ঘাটতি, নতুন নীতিমালার কারণে শিডিউল পরিকল্পনায় ভুল, প্রযুক্তিগত জটিলতা।
সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আগামী দুই–তিন দিন আরও কিছু ফ্লাইট বাতিল রাখা হবে। ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় ২,৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
একসময় অত্যন্ত সময়নিষ্ঠতার জন্য পরিচিত ইন্ডিগোর অন-টাইম পারফরম্যান্স বুধবার নেমে এসেছে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে—যা তার আগের দিনের ৩৫ শতাংশ থেকেও কম।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ বৃহস্পতিবার ইন্ডিগোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে জরুরি বৈঠক করে। দ্রুত সমাধান কীভাবে করা যায় এবং এই বিশৃঙ্খলার উৎস কোথায়—সেসব নিয়েই আলোচনা হয়।
পিটিআই জানিয়েছে, ভারতের বড় বড় শহরে ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে; মুম্বাই: ১১৮, বেঙ্গালুরু: ১০০, হায়দরাবাদ: ৭৫, কলকাতা: ৩৫, চেন্নাই: ২৬, গোয়া: ১১। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকেও বাতিলের খবর পাওয়া গেছে।
ইন্ডিগোর ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে, নভেম্বরের শুরু থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল) নীতিমালার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।
এই নীতিমালায় রাতের ফ্লাইট পরিচালনায় অতিরিক্ত পাইলট প্রয়োজন হয়, সময়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, পাইলটদের ডিউটি ঘণ্টা কমানো হয় ক্লান্তি ও ঝুঁকি কমানোর জন্য, সব মিলিয়ে রোস্টার পুরোপুরি বদলে যায়। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে রূপান্তরজনিত সমস্যার ফলে পাইলটের চাহিদা ইন্ডিগোর পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়।
ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স কর্মীদের উদ্দেশে জানান—স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানো এবং সময়নিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করা সহজ কাজ হবে না, তবে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সবকিছু ঠিক করতে কাজ করছে।
































