ভাবিকে হত্যার ১০ বছর পর চাচার হাতে এবার ভাতিজি খুন
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 185
বরগুনার তালতলী উপজেলায় ভাবিকে হত্যার ১০ বছর পর এবার নিজের ছয় বছর বয়সী ভাতিজিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে চাচা হাবিব ওরফে হাবিল খান (২৭)।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘাতককে গ্রেপ্তার করে।
নিহত তাননুর আক্তার নাবিল (৬) ইদুপাড়া গ্রামের দুলাল খানের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে দোকান থেকে বিস্কুট কিনতে গেলে হঠাৎ পেছন থেকে চাচা হাবিল একটি গড়ান কাঠের লাঠি দিয়ে শিশুটির মাথা ও হাতে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পথে শিশুটি মারা যায়।
স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া করলে সে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিল ২০১৫ সালের আগস্টে তার বড় ভাই দুলাল খানের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেছিল। তখন তার বয়স ১৭ বছর। শিশু আইনের শাস্তি অনুযায়ী ৯ বছর সাজা ভোগের পর ২০২৪ সালের শুরুতে জামিনে মুক্তি পায়। মুক্তির এক বছর না যেতেই আবারও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। এবার বড়ভাইয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী ফাহিমা আক্তারের কন্যা তাননুর আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নিহত শিশুর বাবা দুলাল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “২০১৫ সালে আমার প্রথম স্ত্রীকে হত্যা করেছে। এখন আমার ছোট মেয়ে তাননুকেও পিটিয়ে মেরেছে। আমি ঘাতক হাবিলের ফাঁসি চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শী রানা হাওলাদার জানান, তাননু দোকানে যাওয়ার পথে হাবিল পেছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ইউপি সদস্য মো. টুকু সিকদার ও সাবেক ইউপি সদস্য সালাম হাওলাদার জানান, “ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া করলে সে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।”
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, “শিশুটির মাথা ও হাতের কনুইয়ে গুরুতর জখম ছিল। বরিশালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, “ঘাতক হাবিল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুর মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে এবং বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। শিশুর বাবা দুলাল খান হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।”


































