ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সিলেটে সিজিএস আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

ভয়মুক্ত ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 107

সিলেটে সিজিএস আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা।

একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগ নয়, বরং ভয়মুক্ত পরিবেশে, কোনো চাপ বা হুমকি ছাড়া রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ও। সেটি নিশ্চিত না হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র কেবল কথার পর্যায়ে থেকে যায়।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) “প্রতিটি কণ্ঠের মূল্য: সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনার বিশিষ্টজনেরা একথা বলেন।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি ) সিলেটের মির্জা জাঙ্গাল রোডে নির্ভানা ইন এ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মতামতের গুরুত্ব, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে আসে।

পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে মূলধারায় নিয়ে আসা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় ও নির্ভীক ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোকপাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সিলেট মহানগর-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মলয় পুরকায়স্থ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সিলেট জেলা-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, ডেইলি স্টার-এর সিলেট প্রতিনিধি মিন্টু দেশোয়ারা, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর ব্যুরো চিফ ইকবাল সিদ্দিকী, খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল-এর সেক্রেটারি অনিলজয় ডিকার, খাসিয়া নারী প্রতিনিধি হিলদা মুকিম, সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি সমর বিজয় সী শেখর, আইনজীবী রনেন সরকার রনি, পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র, এথনিক কমিউনিটি ডেভেলাপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষীকান্ত সিংহ, চা শ্রমিক নেতা হরি সবর, চা শ্রমিক নেত্রী শেলী দাস, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক জহিরুল হক শাকিল, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেট-এর সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রণব কান্তি দেব, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মিলন ওঁরাও, শাবিপ্রবি-এর পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী, সচেতন নাগরিক কমিটি, সিলেট-এর সভাপতি এড. সৈয়দা শিরিন হক, প্রেসবেট্রিয়ান চার্চ-এর চেয়ারম্যান ডিকন নিঝুম সাংমা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট-এর সদস্য সচিব রাজিব কুমার দে, হিজড়া যুব কল্যাণ সংস্থা, সিলেট-এর সভাপতি মিস সুকতা, হিজড়া যুব কল্যাণ সংস্থা, সিলেট-এর কোষাধ্যক্ষ মুক্তি, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ, সিলেট বিভাগের সভাপতি মিলন রবিদাস, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (সিলেট অঞ্চল)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উৎপল বড়ুয়া, বৌদ্ধ সমিতি, সিলেট-এর সভাপতি চন্দ্র শেখর বড়ুয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসুল বাসিত শেরো, উদ্যোক্তা পীযূষ কান্তি পুরকায়স্থ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান ।

এড. মৃত্যুঞ্জয় ধর বলেন, আমরা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মহাসমাবেশে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করেছিলাম, কিন্তু আজও তা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা আশা করেছিলাম—হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, খ্রিস্টান সবাই একসাথে কাজ করব। কিন্তু সেই আশা আজও পূরণ হয়নি। বাংলাদেশে নির্বাচন এলেই আমরা সংখ্যালঘুরা ভয় ও আতঙ্কে থাকি। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও বৌদ্ধদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দীপু চন্দ্র দাস, মুনির চক্রবর্তী, রানা প্রসাদ বৈরাগীসহ আরও অনেককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে রাজনৈতিক দল সরকারে যায়, তারা নিজেদের মতো করে আইন তৈরি করে। যারা আইন প্রণয়ন করেন, অনেক সময় তারা নিজেরাই বোঝেন না—তারা কী করছেন। দেশে মবের প্রবণতা শুরু হয়েছে। মব কখনো বিচার হতে পারে না। এই মবের মাধ্যমে আমাদের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলতে দেখলাম না।

অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন হক বলেন, নারী কমিশন গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে—মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি গুরুতর প্রকাশ। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো অত্যন্ত সীমিত, এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত। এই অনুপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক সংকট নয়, এটি সংবিধান ও গণতন্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ।

জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যখন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের একটি মূল মানদণ্ড হিসেবে দেখতে হবে, কোনো পার্শ্ব ইস্যু হিসেবে নয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯.৬ শতাংশ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা মনে করেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কর্মসূচিতে তাদের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায় না। নির্বাচনের সময় অনেক দল তাদেরকে ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করলেও নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ কম দেখা যায়। এই সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি কাঠামোগতও।

তিনি বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জ আরও দীর্ঘদিনের। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ভাষা ও পরিচয়ের স্বীকৃতি, ভূমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত সংকট এবং ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখনও অনেকাংশে অসমাধান রয়ে গেছে। শুধু স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়, বাস্তবায়নই অধিকারকে অর্থবহ করে তোলে। এই বাস্তবায়ন না থাকলে আদিবাসীসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত থাকে।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই প্রশ্নের ওপর- সব নাগরিক কি সমানভাবে নিরাপদ, সমানভাবে মূল্যবান এবং সমানভাবে প্রতিনিধিত্বশীল বোধ করছেন কি না।

ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে নানা জায়গায় মব তৈরি হচ্ছে, গণমাধ্যমের ওপর হামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে কোনোভাবেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। রাজনীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। যতদিন আমরা না বুঝব, ততদিন অনাচার ও সমস্যা চলতেই থাকবে।”

এড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “আমি হিন্দু হওয়ার কারণে কি এই দেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারব না? অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অন্য নাগরিকরা যা পান, আমরা তা পাই না।”
তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে আলাদা করে কোনো স্পষ্ট অঙ্গীকার দেখা যায় না। তাহলে আমরা কাকে ভোট দেব?”

তিনি বলেন, “আমাদের সকলের অন্তর পরিশুদ্ধ হতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। ধর্ম নাগরিকের জন্য প্রয়োজন, রাষ্ট্রের জন্য ধর্ম প্রয়োজন নয়।”

হিলদা মুকিম বলেন, “আদিবাসী না বলে এখনো আমাদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বলা হয়। এই পরিচয়ের কারণে আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
তিনি বলেন, “অনেক সময় আমাদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের কাছে গেলে তারা আমাদের জন্য কার্যকরভাবে কাজ করে না।”

তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে আমরা অনেক বৈষম্যের শিকার হই। ‘হ্যাঁ ভোট’ আর ‘না ভোট’ কী- আমরা কিছুই জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “এনসিপি কী, সেটাও আমাদের পরিষ্কার ধারণায় নেই। তাই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমাদের কাছে এসে তাদের ইশতেহার এবং পরিকল্পনা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত।”

গৌরাঙ্গ পাত্র বলেন, “একটি দল মনে করে তারা আগেই সরকারে চলে গেছে। এই মানসিকতা গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ৮০টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে আমাদের কথা ও দাবিগুলো রাজনৈতিক অঙ্গীকারে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।” রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের ইশতেহারে আদিবাসীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, কার্যকর নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং সেসব বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করে এবং নির্বাচনের পরে তা নিশ্চিত করে- তাহলে আমরা সন্তুষ্ট হব।

হরি সবর বলেন, “আমরা যারা চা বাগানে কাজ করি, আমাদের অবস্থা বর্তমানে খুবই খারাপ। একসময় আমাদের মাসিক মজুরি ছিল ১২০ টাকা, পরে সরকার ১৪০–১৪৫ টাকা নির্ধারণ করে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা ১৭০ টাকা আদায় করতে পেরেছিলাম।”

তিনি বলেন, “আমরা এখনো জমি ও অধিকার নিয়ে লড়াই করছি। স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রেও আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়।

প্রণব কান্তি দেব বলেন, “আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি ‘পয়েন্ট অব নো এক্সপেক্টেশন’-এ। জুলাই বিপ্লবের পর আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু প্রান্তের মানুষের ভাষা অনেক সময় কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছায় না।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রতিদিনই নতুনভাবে সংখ্যালঘু তৈরি হচ্ছে। এখন মতের মিল না হলেই আমরা সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছি।”

মিলন ওঁরাও বলেন, “যাকে আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করব, তিনি কি আমার অধিকার নিয়ে কথা বলবেন? তিনি কি আমার জন্য কাজ করবেন? যদি না করেন, তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

ডিকন নিঝুম সাংমা বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরে কী হতে পারে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তাই যখনই আমরা কোনো কথা বলি, তার প্রভাব শুধু আমার ওপর পড়ে না—আমাদের পুরো সমাজের ওপর পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোট’ আর ‘না ভোট’-এর অর্থ কী, তা স্পষ্ট করা জরুরি। আমরা এটি পরিষ্কারভাবে জানি না। আমরা যেন অন্ধকারের মধ্যে আছি।”

রাজিব কুমার দে বলেন, “আমি নিজেকে সংখ্যালঘু মনে করি না। জীবনটা একটাই, তাই হারানোর কিছু নেই।”
তিনি বলেন, “আমরা যদি নিজেদের সংখ্যালঘু বলে ভাবি, আমরা যদি প্রতিবাদ না করি, আমরা যদি কথা না বলি—তাহলে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা আমাদের আরও বেশি দমিয়ে রাখবে।”
তিনি বলেন, “এই দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তার একটিরও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি।”

শামসুল বাসিত শেরো বলেন, “প্রশাসন পুরোপুরি একটি দলের হয়ে কাজ করে। প্রশাসনের ভেতরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যার কারণে গত ১৫–২০ বছর ধরে সংখ্যালঘুদের কোনো কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

অ্যাডভোকেট মলয় পুরকায়স্থ বলেন, আমাদের চারপাশে যা ঘটছে, তা সবার চোখের সামনেই স্পষ্ট। দ্য ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ইঙ্গিত করে যে, সমাজে ভয়ভীতি, চাপ এবং দমনমূলক পরিবেশ ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। যখন এমন প্রতিষ্ঠানগুলো হামলা বা অযাচিত হস্তক্ষেপের শিকার হয়, তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে- এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কোথায় গিয়ে আশ্রয় ও সুরক্ষা খুঁজবে?

মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, চা শ্রমিকদের ভূমিকা নির্বাচন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় খুব কমই বিবেচনায় আসে, এবং তাদের অধিকার ও অগ্রাধিকারগুলো মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত। উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে তাদের জীবনমান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত।

অনিলজয় ডিকার বলেন, খাসি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও কার্যকর গুরুত্বহীনতার শিকার। রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্র ও ঘোষণায় সংখ্যালঘুদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও

বাস্তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখনো নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার মধ্যে গভীর ব্যবধানেরই প্রকাশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-নীতিমালা কাগজে লেখা ঘোষণা হয়ে না থেকে বাস্তব প্রয়োগযোগ্য ও কার্যকর উদ্যোগে রূপ নিতে হবে, যা মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।

সমর বিজয় সী শেখর বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নির্ধারিত থাকলেও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ইশতেহার এখনো পাওয়া যায়নি—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগামী নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, এবং ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল কথায় নয়, বাস্তবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে হবে।

রনেন সরকার রনি বলেন, এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে স্পষ্ট ও সমানভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে, কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ছাড়াই। রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্রে বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঘিরে বহু প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতি প্রায় কখনোই বাস্তবায়িত হয় না।

লক্ষীকান্ত সিংহ বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিশ্রুতি সেখানে নেই। জামায়াতের ইশতেহারেও খুব বেশি ভিন্ন চিত্র দেখা যায় না। এই বাস্তবতায় নির্বাচন হবে কি হবে না- তা অনেকের কাছে আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না, কারণ সংখ্যালঘুরা মনে করেন, এটি এমন একটি নির্বাচন নয় যেখানে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

শেলী দাস বলেন, চা শ্রমিকরা এখনো শিক্ষা এবং ভূমি নিরাপত্তাসহ মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ন্যায্য দাবি জানালেও অধিকাংশ সময়ই তারা পান সামান্য ও অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও প্রস্তাব এসেছে মাত্র ১৭৮ টাকা, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা শ্রমের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আব্দুল করিম কিম বলেন, গত দেড় বছরে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ও জনসমক্ষে নানা ধরনের উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখন ক্রমশ মুখ খুলতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে, কারণ তারা বারবার সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। ফলে বক্তব্য ও বাস্তব সুরক্ষার মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়েছে, এবং বাস্তব অর্জন এখনও অনেকটাই অনুপস্থিত।

সুকতা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রায়ই অন্যায়ভাবে স্বৈরাচারী শাসনের সহায়ক বা সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং অপমানজনক।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকার তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিয়েছে- এটি সত্য। তবে স্বীকৃতি পাওয়া মানেই কোনো রাজনৈতিক আনুগত্য নয় এবং এর ভিত্তিতে পুরো একটি সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখা বা দায়ী করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তত একজন প্রতিনিধি সংসদে উপস্থিত থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ তিনি তাদের অধিকার ও বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারবেন। এই সম্প্রদায় সক্ষম, দৃঢ় এবং মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য- স্টেরিওটাইপ বা বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহারের নয়।

উৎপল বড়ুয়া বলেন, কেন কিছু জনগোষ্ঠীকে বারবার “সংখ্যালঘু” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়- যেন তারা জাতির মূলধারার বাইরে- এ প্রশ্ন তোলা জরুরি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য এবং তাদের আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণ অনস্বীকার্য। জাতি গঠনের ইতিহাসে তাদের ভূমিকা কখনোই প্রান্তিক করে দেখা উচিত নয়। কিন্তু এই যৌথ ইতিহাস সত্ত্বেও নির্বাচন-পূর্ব সময় থেকেই তারা সহিংসতা ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছে।

পীযূষ কান্তি পুরকায়স্থ বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে যেভাবে দেখা হয় এবং যেভাবে আলোচনা করা হয়, সেখানে একটি মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। তাদের যেন কোনো প্রান্তিক গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা না করা হয় কিংবা প্রতীকী রাজনীতির অংশে সীমাবদ্ধ না করা হয়। সংখ্যালঘু নাগরিকরাও এই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং তারা সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সিলেটে সিজিএস আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

ভয়মুক্ত ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগ নয়, বরং ভয়মুক্ত পরিবেশে, কোনো চাপ বা হুমকি ছাড়া রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ও। সেটি নিশ্চিত না হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র কেবল কথার পর্যায়ে থেকে যায়।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) “প্রতিটি কণ্ঠের মূল্য: সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনার বিশিষ্টজনেরা একথা বলেন।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি ) সিলেটের মির্জা জাঙ্গাল রোডে নির্ভানা ইন এ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মতামতের গুরুত্ব, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে আসে।

পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে মূলধারায় নিয়ে আসা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় ও নির্ভীক ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোকপাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সিলেট মহানগর-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মলয় পুরকায়স্থ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সিলেট জেলা-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, ডেইলি স্টার-এর সিলেট প্রতিনিধি মিন্টু দেশোয়ারা, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর ব্যুরো চিফ ইকবাল সিদ্দিকী, খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল-এর সেক্রেটারি অনিলজয় ডিকার, খাসিয়া নারী প্রতিনিধি হিলদা মুকিম, সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি সমর বিজয় সী শেখর, আইনজীবী রনেন সরকার রনি, পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র, এথনিক কমিউনিটি ডেভেলাপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষীকান্ত সিংহ, চা শ্রমিক নেতা হরি সবর, চা শ্রমিক নেত্রী শেলী দাস, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক জহিরুল হক শাকিল, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেট-এর সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রণব কান্তি দেব, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মিলন ওঁরাও, শাবিপ্রবি-এর পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী, সচেতন নাগরিক কমিটি, সিলেট-এর সভাপতি এড. সৈয়দা শিরিন হক, প্রেসবেট্রিয়ান চার্চ-এর চেয়ারম্যান ডিকন নিঝুম সাংমা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট-এর সদস্য সচিব রাজিব কুমার দে, হিজড়া যুব কল্যাণ সংস্থা, সিলেট-এর সভাপতি মিস সুকতা, হিজড়া যুব কল্যাণ সংস্থা, সিলেট-এর কোষাধ্যক্ষ মুক্তি, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ, সিলেট বিভাগের সভাপতি মিলন রবিদাস, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (সিলেট অঞ্চল)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উৎপল বড়ুয়া, বৌদ্ধ সমিতি, সিলেট-এর সভাপতি চন্দ্র শেখর বড়ুয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসুল বাসিত শেরো, উদ্যোক্তা পীযূষ কান্তি পুরকায়স্থ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান ।

এড. মৃত্যুঞ্জয় ধর বলেন, আমরা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মহাসমাবেশে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করেছিলাম, কিন্তু আজও তা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা আশা করেছিলাম—হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, খ্রিস্টান সবাই একসাথে কাজ করব। কিন্তু সেই আশা আজও পূরণ হয়নি। বাংলাদেশে নির্বাচন এলেই আমরা সংখ্যালঘুরা ভয় ও আতঙ্কে থাকি। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও বৌদ্ধদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দীপু চন্দ্র দাস, মুনির চক্রবর্তী, রানা প্রসাদ বৈরাগীসহ আরও অনেককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে রাজনৈতিক দল সরকারে যায়, তারা নিজেদের মতো করে আইন তৈরি করে। যারা আইন প্রণয়ন করেন, অনেক সময় তারা নিজেরাই বোঝেন না—তারা কী করছেন। দেশে মবের প্রবণতা শুরু হয়েছে। মব কখনো বিচার হতে পারে না। এই মবের মাধ্যমে আমাদের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলতে দেখলাম না।

অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন হক বলেন, নারী কমিশন গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে—মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি গুরুতর প্রকাশ। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো অত্যন্ত সীমিত, এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত। এই অনুপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক সংকট নয়, এটি সংবিধান ও গণতন্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ।

জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যখন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের একটি মূল মানদণ্ড হিসেবে দেখতে হবে, কোনো পার্শ্ব ইস্যু হিসেবে নয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯.৬ শতাংশ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা মনে করেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কর্মসূচিতে তাদের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায় না। নির্বাচনের সময় অনেক দল তাদেরকে ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করলেও নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ কম দেখা যায়। এই সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি কাঠামোগতও।

তিনি বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জ আরও দীর্ঘদিনের। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ভাষা ও পরিচয়ের স্বীকৃতি, ভূমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত সংকট এবং ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখনও অনেকাংশে অসমাধান রয়ে গেছে। শুধু স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়, বাস্তবায়নই অধিকারকে অর্থবহ করে তোলে। এই বাস্তবায়ন না থাকলে আদিবাসীসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত থাকে।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই প্রশ্নের ওপর- সব নাগরিক কি সমানভাবে নিরাপদ, সমানভাবে মূল্যবান এবং সমানভাবে প্রতিনিধিত্বশীল বোধ করছেন কি না।

ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে নানা জায়গায় মব তৈরি হচ্ছে, গণমাধ্যমের ওপর হামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে কোনোভাবেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। রাজনীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। যতদিন আমরা না বুঝব, ততদিন অনাচার ও সমস্যা চলতেই থাকবে।”

এড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “আমি হিন্দু হওয়ার কারণে কি এই দেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারব না? অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অন্য নাগরিকরা যা পান, আমরা তা পাই না।”
তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে আলাদা করে কোনো স্পষ্ট অঙ্গীকার দেখা যায় না। তাহলে আমরা কাকে ভোট দেব?”

তিনি বলেন, “আমাদের সকলের অন্তর পরিশুদ্ধ হতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। ধর্ম নাগরিকের জন্য প্রয়োজন, রাষ্ট্রের জন্য ধর্ম প্রয়োজন নয়।”

হিলদা মুকিম বলেন, “আদিবাসী না বলে এখনো আমাদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বলা হয়। এই পরিচয়ের কারণে আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
তিনি বলেন, “অনেক সময় আমাদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের কাছে গেলে তারা আমাদের জন্য কার্যকরভাবে কাজ করে না।”

তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে আমরা অনেক বৈষম্যের শিকার হই। ‘হ্যাঁ ভোট’ আর ‘না ভোট’ কী- আমরা কিছুই জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “এনসিপি কী, সেটাও আমাদের পরিষ্কার ধারণায় নেই। তাই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমাদের কাছে এসে তাদের ইশতেহার এবং পরিকল্পনা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত।”

গৌরাঙ্গ পাত্র বলেন, “একটি দল মনে করে তারা আগেই সরকারে চলে গেছে। এই মানসিকতা গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ৮০টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে আমাদের কথা ও দাবিগুলো রাজনৈতিক অঙ্গীকারে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।” রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের ইশতেহারে আদিবাসীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, কার্যকর নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং সেসব বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করে এবং নির্বাচনের পরে তা নিশ্চিত করে- তাহলে আমরা সন্তুষ্ট হব।

হরি সবর বলেন, “আমরা যারা চা বাগানে কাজ করি, আমাদের অবস্থা বর্তমানে খুবই খারাপ। একসময় আমাদের মাসিক মজুরি ছিল ১২০ টাকা, পরে সরকার ১৪০–১৪৫ টাকা নির্ধারণ করে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা ১৭০ টাকা আদায় করতে পেরেছিলাম।”

তিনি বলেন, “আমরা এখনো জমি ও অধিকার নিয়ে লড়াই করছি। স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রেও আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়।

প্রণব কান্তি দেব বলেন, “আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি ‘পয়েন্ট অব নো এক্সপেক্টেশন’-এ। জুলাই বিপ্লবের পর আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু প্রান্তের মানুষের ভাষা অনেক সময় কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছায় না।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রতিদিনই নতুনভাবে সংখ্যালঘু তৈরি হচ্ছে। এখন মতের মিল না হলেই আমরা সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছি।”

মিলন ওঁরাও বলেন, “যাকে আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করব, তিনি কি আমার অধিকার নিয়ে কথা বলবেন? তিনি কি আমার জন্য কাজ করবেন? যদি না করেন, তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

ডিকন নিঝুম সাংমা বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরে কী হতে পারে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তাই যখনই আমরা কোনো কথা বলি, তার প্রভাব শুধু আমার ওপর পড়ে না—আমাদের পুরো সমাজের ওপর পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোট’ আর ‘না ভোট’-এর অর্থ কী, তা স্পষ্ট করা জরুরি। আমরা এটি পরিষ্কারভাবে জানি না। আমরা যেন অন্ধকারের মধ্যে আছি।”

রাজিব কুমার দে বলেন, “আমি নিজেকে সংখ্যালঘু মনে করি না। জীবনটা একটাই, তাই হারানোর কিছু নেই।”
তিনি বলেন, “আমরা যদি নিজেদের সংখ্যালঘু বলে ভাবি, আমরা যদি প্রতিবাদ না করি, আমরা যদি কথা না বলি—তাহলে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা আমাদের আরও বেশি দমিয়ে রাখবে।”
তিনি বলেন, “এই দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তার একটিরও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি।”

শামসুল বাসিত শেরো বলেন, “প্রশাসন পুরোপুরি একটি দলের হয়ে কাজ করে। প্রশাসনের ভেতরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যার কারণে গত ১৫–২০ বছর ধরে সংখ্যালঘুদের কোনো কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

অ্যাডভোকেট মলয় পুরকায়স্থ বলেন, আমাদের চারপাশে যা ঘটছে, তা সবার চোখের সামনেই স্পষ্ট। দ্য ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ইঙ্গিত করে যে, সমাজে ভয়ভীতি, চাপ এবং দমনমূলক পরিবেশ ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। যখন এমন প্রতিষ্ঠানগুলো হামলা বা অযাচিত হস্তক্ষেপের শিকার হয়, তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে- এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কোথায় গিয়ে আশ্রয় ও সুরক্ষা খুঁজবে?

মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, চা শ্রমিকদের ভূমিকা নির্বাচন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় খুব কমই বিবেচনায় আসে, এবং তাদের অধিকার ও অগ্রাধিকারগুলো মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত। উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে তাদের জীবনমান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত।

অনিলজয় ডিকার বলেন, খাসি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও কার্যকর গুরুত্বহীনতার শিকার। রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্র ও ঘোষণায় সংখ্যালঘুদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও

বাস্তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখনো নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার মধ্যে গভীর ব্যবধানেরই প্রকাশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-নীতিমালা কাগজে লেখা ঘোষণা হয়ে না থেকে বাস্তব প্রয়োগযোগ্য ও কার্যকর উদ্যোগে রূপ নিতে হবে, যা মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।

সমর বিজয় সী শেখর বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নির্ধারিত থাকলেও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ইশতেহার এখনো পাওয়া যায়নি—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগামী নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, এবং ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল কথায় নয়, বাস্তবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে হবে।

রনেন সরকার রনি বলেন, এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে স্পষ্ট ও সমানভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে, কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ছাড়াই। রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্রে বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঘিরে বহু প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতি প্রায় কখনোই বাস্তবায়িত হয় না।

লক্ষীকান্ত সিংহ বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিশ্রুতি সেখানে নেই। জামায়াতের ইশতেহারেও খুব বেশি ভিন্ন চিত্র দেখা যায় না। এই বাস্তবতায় নির্বাচন হবে কি হবে না- তা অনেকের কাছে আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না, কারণ সংখ্যালঘুরা মনে করেন, এটি এমন একটি নির্বাচন নয় যেখানে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

শেলী দাস বলেন, চা শ্রমিকরা এখনো শিক্ষা এবং ভূমি নিরাপত্তাসহ মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ন্যায্য দাবি জানালেও অধিকাংশ সময়ই তারা পান সামান্য ও অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও প্রস্তাব এসেছে মাত্র ১৭৮ টাকা, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা শ্রমের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আব্দুল করিম কিম বলেন, গত দেড় বছরে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ও জনসমক্ষে নানা ধরনের উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখন ক্রমশ মুখ খুলতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে, কারণ তারা বারবার সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। ফলে বক্তব্য ও বাস্তব সুরক্ষার মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়েছে, এবং বাস্তব অর্জন এখনও অনেকটাই অনুপস্থিত।

সুকতা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রায়ই অন্যায়ভাবে স্বৈরাচারী শাসনের সহায়ক বা সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং অপমানজনক।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকার তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিয়েছে- এটি সত্য। তবে স্বীকৃতি পাওয়া মানেই কোনো রাজনৈতিক আনুগত্য নয় এবং এর ভিত্তিতে পুরো একটি সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখা বা দায়ী করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তত একজন প্রতিনিধি সংসদে উপস্থিত থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ তিনি তাদের অধিকার ও বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারবেন। এই সম্প্রদায় সক্ষম, দৃঢ় এবং মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য- স্টেরিওটাইপ বা বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহারের নয়।

উৎপল বড়ুয়া বলেন, কেন কিছু জনগোষ্ঠীকে বারবার “সংখ্যালঘু” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়- যেন তারা জাতির মূলধারার বাইরে- এ প্রশ্ন তোলা জরুরি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য এবং তাদের আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণ অনস্বীকার্য। জাতি গঠনের ইতিহাসে তাদের ভূমিকা কখনোই প্রান্তিক করে দেখা উচিত নয়। কিন্তু এই যৌথ ইতিহাস সত্ত্বেও নির্বাচন-পূর্ব সময় থেকেই তারা সহিংসতা ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছে।

পীযূষ কান্তি পুরকায়স্থ বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে যেভাবে দেখা হয় এবং যেভাবে আলোচনা করা হয়, সেখানে একটি মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। তাদের যেন কোনো প্রান্তিক গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা না করা হয় কিংবা প্রতীকী রাজনীতির অংশে সীমাবদ্ধ না করা হয়। সংখ্যালঘু নাগরিকরাও এই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং তারা সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে।