বিমানের চাকা চুরি; ক্রেতা ইউএস বাংলা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 3087
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হ্যাঙ্গার থেকে ১০টি চাকা চুরির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই চাকার কিছু অংশ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কাছে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনায় সোমবার (১৮ আগস্ট) বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহের শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হাই সিকিউরিটি এলাকা হ্যাঙ্গারে বিমানের গোডাউন থেকে ১০টি চাকা চুরি হয়। প্রতিটি চাকার দাম ১৫ থেকে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, চাকা এক্সচেঞ্জ বলা হলেও, এটিকে প্রকৃতপক্ষে চুরির ঘটনা বলছে সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিমান বাংলাদেশের ভালো চাকার বদলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পুরনো চাকা দেওয়া হয়েছে, যা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাই সিকিউরিটি এলাকায় অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। তাই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সদস্যদের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে সোমবার বিমানবন্দর থানায় জিডি করেছেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন।
তবে জিডিতে বিষয়টিকে চুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ১৬ অগাস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল টায়ার’ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশের অকশন শেডে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জিডিতে বলা হয়, খুঁজে না পাওয়ার পর বিমানের ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন ও স্টোর হেলপার সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে কর্মরত (এজিএম) শফিকুল ইসলামকে ১০টি চাকা ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। আর এটি ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে’ না জানিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিমান বিভিন্ন আউটস্টেশনে (জেদ্দা, দুবাই, মদিনা, দাম্মাম, আবুধাবি ও শারজাহ) অতিরিক্ত চাকা মজুদ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চাকা প্রতিস্থাপনের জন্য ইতোমধ্যেই নতুন টেন্ডার দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের কর্মীদের মধ্যে অল্পসংখ্যক দুর্নীতিবাজের কারণে গোটা সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। প্রতিটি চাকার মূল্য ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার, ফলে ১০টি চাকার মোট মূল্য প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা। এসব চাকা বোয়িং-৭৭৭ বিমান থেকে নেওয়া হয়ে অন্য এয়ারলাইন্সের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।
জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবিএম রওশন কবীর জানিয়েছেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইউএস বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, তারা এ বিষয়ে অবগত আছেন। তবে তাদের কাছে কোন চাকা আসেনি। তাছাড়া ইউএস বাংলাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। জানালে সে অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান কামরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের কর্মকর্তা জানান, বিমান কতৃপক্ষকে অবগত না করে ইউএস বাংলার সাথে ১০ টি চাকা অদল-বদলের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়রি হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা আগেও ঘটে থাকতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে হবে।
গত এক মাসে বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজে অন্তত আটবার কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে চাকা ফেটে যাওয়া থেকে শুরু করে নানান যান্ত্রিক সমস্যা কারণে একাধিক ফ্লাইট বাতিল এবং অনেক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়, যার ফলে শিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে।
এই ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানায়, যাত্রীসুরক্ষা ও সেবার মান রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা থেকে আবুধাবি গামী একটি ফ্লাইটে টয়লেট ফ্লাশ সংক্রান্ত সমস্যার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব কারিগরি ত্রুটি পর্যালোচনার জন্য চার সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।





































