বিমানে আলোচিত পদোন্নতি: হাফসাকে নিয়ে বিতর্ক
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
- / 622
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চিফ পার্সার (লাইন ক্রু) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাফসা আহমেদ (শিল্পী) চিফ পার্সার (ব্রিফিং) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ১১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জারি করা এক অফিস আদেশে কর্তৃপক্ষ এ পদায়ন অনুমোদন করে। বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস উপবিভাগের অধীনে এ পদায়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে এই পদোন্নতি নিয়ে আলোচনা চলছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, হাফসা আহমেদ (শিল্পী) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশাসন ও কূটনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্কের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন।
সূত্রগুলো অভিযোগ করছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হাফসা আহমেদের পুরো পরিবারের সখ্যতা ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আওয়ামী আশীর্বাদপুষ্ট অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি হয়নি। অনেকেই ওএসডি এমনকি চাকরিচ্যুত হয়েছেন। সেখানে বিমানের বর্তমান এমডির সঙ্গে পূর্বের সখ্যতাই কি হাফসা আহমেদের পদোন্নতির পেছনে মূল প্রভাবক; এ প্রশ্ন এখন পুরো বিমানজুড়ে ঘুরছে।
জানা গেছে, হাফসা আহমেদের বড় বোনের স্বামী দেশের এক আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি গত বছরের জুলাই আন্দোলনে “স্যার, গুলি করলে একটা মরে, অন্যরা মরে না; এটাই হলো সমস্যা” বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হন।
এছাড়া হাফসা আহমেদের আরেক বোনের স্বামী সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনবারের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর, যিনি আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনের ঘনিষ্ঠ মহলে পরিচিত। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করতেন, যার ফলে শেখ হাসিনার সুনজরে সবসময় ছিলেন।
প্রসঙ্গত, মো. আবু জাফরের আপন ছোট ভাই ছিলেন গত সরকারের নির্বাচন কমিশনের সচিব ও ১৩তম বিসিএস কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। নির্বাচনের পর তিনি স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সব মিলিয়ে, পারিবারিকভাবে হাফসা আহমেদ প্রভাবশালী প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে সূত্রের দাবি।
সূত্ররা আরও জানায়, পদোন্নতির প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমানের অনুমোদনে গ্রাহকসেবা বিভাগের পরিচালক মো. রাশেদুল করিম সম্পন্ন করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড অনুসৃত হয়েছে কি না; তা নিয়ে সংস্থার ভেতরের কিছু কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকসেবা বিভাগের পরিচালক মো. রাশেদুল করিম বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দ্রুত পদোন্নতি পেয়েছেন এবং একাধিক সুবিধা ভোগ করেছেন।
এসব বিষয়ে মো. রাশেদুল করিম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, আমি সরাসরি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না। জনসংযোগ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
হাফসা আহমেদ (শিল্পী) সম্পর্কে ব্যক্তিগত জীবন ও বর্তমান এমডির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ অভিযোগ থাকলেও, সেগুলো বিষয়ে তিনি কিংবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাবের অভিযোগ নতুন নয়। তবে নীতিমালা মেনে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ-পদোন্নতি হলে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও কর্মদক্ষতা উভয়ই ইতিবাচক প্রভাব পেতে পারে।
এদিকে, হাফসা আহমেদ (শিল্পী);র চিফ পার্সার পদে পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমান এবং গ্রাহকসেবা বিভাগের পরিচালক মো. রাশেদুল করিম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছে বিমানের একাধিক সূত্র।
আরো পড়তে পারেন




































