বিদেশি ঋণ প্রাপ্তি কম, পরিশোধ বেশি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
- / 94
ঋণনির্ভর উন্নয়ন চলমান অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণ প্রাপ্তির তুলনায় প্রায় ১৩ কোটি ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। এর ফলে নতুন ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে পুরোনো ঋণ পরিশোধের প্রবণতা বেড়েছে এবং সরকারের উচিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকেও ঋণ পরিশোধ করা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বৈদেশিক ঋণ ছাড় হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার; কিন্তু পরিশোধ হয়েছে ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ ছিল ১১২ কোটি ডলার। তুলনায় এবারের পরিশোধ বেড়ে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ডলার হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র মূল ঋণের পরিশোধই বেড়েছে ১৩ কোটি ডলার।
একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৯১ কোটি ৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতির তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। তবে বাস্তব ঋণ ছাড়ের গতি ধীর হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
ইআরডি জানিয়েছে, পদ্মা রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে। তবে মেট্রোরেল ছাড়া অন্য প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাশিত আয়ের কোনোটিই এখনো আসছে না। কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প থেকে পাওয়া আয়ের দ্বারা শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে এসব প্রকল্পের ঋণ সরকারকে নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০৯ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিশোধ হয়েছে ৩৩৫ কোটি ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৬৭ কোটি ডলার।
এছাড়া, বাজারভিত্তিক ঋণের সুদও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সিকিউরড ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট (এসওএফআর) বেড়ে ৫ শতাংশের বেশি হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের আগে এটি ১ শতাংশের নিচে ছিল। ফলে বাংলাদেশে বাজারভিত্তিক ঋণও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, বিশেষত জাইকা, এডিবি বা বাণিজ্যিক ঋণপথে নেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে পরিশোধের চাপও। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদি রাজস্ব আদায় বাড়ানো না যায় এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বৃদ্ধি না হয়, তাহলে ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতিতে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।”






































