বিতর্কিত কেবিন ক্রুকে ম্যানেজার বানাতে মরিয়া বিমান প্রশাসন
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
- / 1151
বিতর্কিত, সমালোচিত এবং একাধিকবার শাস্তিপ্রাপ্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ পার্সার সেতারা নাসরিন নিশিকে ম্যানেজার পদে পদোন্নতির জন্য যেন উঠেপড়ে লেগেছে বিমানের একটি চক্র। অবসরে যাওয়ার আগমুহূর্তে তাকে ম্যানেজার বানাতে নানা অনিয়মে জড়াচ্ছে বিমান ফ্লাইট সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট। অথচ তার বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার, ফেরত পাঠানো এবং দুর্নীতির অভিযোগ।
জানা গেছে, আগামী ৩০ জুন অবসরে যাচ্ছেন বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের সিডিউলিং অ্যান্ড প্ল্যানিংয়ের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার চিফ পার্সার সেতারা নাসরিন নিশি। তবে অবসরের আগে তাকে যেভাবেই হোক ম্যানেজার বানাতে তৎপর একটি প্রভাবশালী মহল। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন তার জন্য বিশেষ ইন্টারভিউ বোর্ড আহ্বান করা হয়েছিল, যদিও তা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ৪ জুন বিজি ৩৪৭ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দুবাই যান সেতারা নাসরিন নিশি। কিন্তু দুবাই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে আটকা পড়েন তিনি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাকে আটক রাখে দুবাই কর্তৃপক্ষ এবং পরে বিজি ৩৪৮ ফ্লাইটে যাত্রী হিসেবে ঢাকায় ফেরত পাঠায়। এতে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়, সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন এবং বিমান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
এটাই প্রথম নয়। এর আগে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে ধারালো অস্ত্রসহ ধরা পড়েন নিশি। ফলে তাকে তিন বছরের জন্য সৌদি আরবে নিষিদ্ধ করা হয় এবং যাত্রী হিসেবে ফেরত পাঠানো হয় ঢাকায়। এছাড়া, ২০১৪ সালে দুবাই-ঢাকা ফ্লাইটে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল বহনের দায়ে কাস্টমসের হাতে আটক হন তিনি। বিমান তাকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনলেও, এই ঘটনায় তাকে তিন মাসের জন্য বরখাস্ত এবং দুটি ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়।
নিশির বিতর্কিত অতীত এখানেই শেষ নয়। ২০২৩ সালে ফ্লাইট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টে ম্যানেজার পদে ইন্টারভিউ বোর্ড বসলে তাতে অংশ নেন তিনি। সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খান তাকে নিয়ে জোরালো সুপারিশ করলেও, এসএসসি পাস ছাড়া আর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দেখাতে না পারায় সে সময় প্রমোশন পাননি নিশি।
তবে এবারও সেই প্রভাবশালী মহল আবার সক্রিয়। বিমানের চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত চৌধুরী চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন—এই সুযোগে ২৬ জুন আবারও বিশেষ ইন্টারভিউ ডাকা হয়েছে। নিশিকে ম্যানেজার বানাতে চিফ পার্সারদের জোর করে ফ্লাইটে যেতে না দিয়ে ঢাকায় আটকে রাখা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক সেফটি অডিট (আইওএসএ) এবং সিভিল এভিয়েশনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ম্যানেজার পদে পদোন্নতির জন্য একজনকে অবশ্যই স্নাতক হতে হবে এবং সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কোর্স বা এম-থ্রি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
অথচ, সেই মানদণ্ড পূরণ না করেও বিতর্কিত একজন কর্মকর্তাকে মাত্র এক দিনের জন্য হলেও ম্যানেজার বানিয়ে কী অর্জন করতে চায় বিমান, সেটাই এখন সবার প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিমানের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ হবে এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ পার্সার সেতারা নাসরিন নিশি বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, “এ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার আমার নেই।”
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম রওশন কবীর বলেন, “তার ইন্টারভিউ নেয়া মানেই তাকে পদোন্নতি দিয়ে দেওয়া না। বোর্ডের সদস্যরা তার সব রেকর্ড তদন্ত করে দেখবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি পদোন্নতি পেতেও পারেন, নাও পারেন।”
সেতারা নাসরিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “কারও বিষয়ে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হলে তিনি এক বছর কোনো পদোন্নতি পান না।”





































