ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ
বিএনপির চোখে অসংগতি, জামায়াত বলছে ইতিবাচক
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 114
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ জমা দিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপি বলছে, কমিশনের প্রতিবেদনে বেশ কিছু ‘অসংগতি’ রয়েছে, অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী মনে করছে এটি একটি ‘ইতিবাচক উদ্যোগ’।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে এমন কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে যা আসলে আলোচনায় ওঠেনি কিংবা ঐকমত্য হয়নি। বিএনপির দাবি, চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত অংশে ভিন্নমতের কোনো প্রতিফলন নেই, যা ঐকমত্যের চেতনার পরিপন্থী।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রকৃত ঐকমত্য নয়, বরং অনৈক্য তৈরি করার পথ নিচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরিত দলগুলো যে বিষয়গুলোতে একমত হয়েছিল, তার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কিছু প্রস্তাব সংযুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে একটি নতুন ধারণা যুক্ত করা হয়েছে, যা কমিশনের আগের আলোচনায় কখনো আসেনি। এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্যও হয়নি।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কমিশনের সুপারিশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, “আমরা এই সুপারিশকে স্বাগত জানাই। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত সরকারি আদেশ জারি করা হোক এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা হোক।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “১৮ দফা প্রস্তাবের মধ্যে গণভোটকে জাতীয় নির্বাচনের আগে আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে। জনগণকে আগে জানাতে হবে তারা কীসের পক্ষে ভোট দিচ্ছে। যদি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হয়, তাহলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন, এতে জটিলতা তৈরি হবে।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনে প্রস্তাব করা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন একসঙ্গে আয়োজন করা যেতে পারে। তবে বিএনপি মনে করছে, এমন প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করবে এবং পুনরায় আলোচনা প্রয়োজন হবে।
































