বাসররাতের পরদিন আখক্ষেতে নববিবাহিত যুবকের মরদেহ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / 84
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বিয়ের পরদিনই এক নববিবাহিত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত যুবকের নাম মো. জামাল ফকির (২৮)। তিনি ওই গ্রামের মো. রোজব ফকিরের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জামাল ছিলেন সেজো।
পরিবারের দাবি, জামাল গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, ঘটনাস্থলের অবস্থান দেখে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তাদের মতে, আখক্ষেতের বেড়ার বাঁশের উচ্চতা ছিল মাত্র তিন থেকে চার ফুট—সেখানে ঝুলে আত্মহত্যা করা সম্ভব নয়, কারণ তাতে পা মাটিতে লেগে যাবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে পারিবারিকভাবে জামালের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের মো. লিটন ভূঁইয়ার মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২৩)-এর সঙ্গে। সন্ধ্যায় কনেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি। রাতে নবদম্পতি একসঙ্গে বাসরঘরে ছিলেন।
শুক্রবার সকালে স্থানীয় এক কৃষক আখক্ষেতে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় জামালের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নামিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নিহতের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার বলেন, “ভোরে বাইরে মানুষের চিৎকার শুনে দরজা খুলতে যাই, কিন্তু দেখি দরজার বাইরে শিকল লাগানো। পরে প্রতিবেশীরা শিকল খুলে দিলে জানতে পারি, আমার স্বামীর মরদেহ মাঠে পাওয়া গেছে।”
নিহতের বড় ভাই জালাল ফকির বলেন, “আমার ভাইয়ের মৃত্যু অত্যন্ত রহস্যজনক। তার কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। কীভাবে এমন হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
সালথা থানার ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, “নববিবাহিত যুবক জামাল ফকিরের মরদেহ আখক্ষেতের বেড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।”































