ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দাফন সম্পন্ন করল বাতিঘর

বাবার মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি ছেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / 167

বাবার মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি ছেলের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানসহ পরিবারের কেউ মরদেহ গ্রহণে রাজি হননি। মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ উদ্যোগ নিয়ে তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করে।

৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইব্রাহিম ৩০ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মৃত্যু হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ছেলের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ছেলে ইসরাফিল সিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানান।

ইব্রাহিমের জন্ম ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের হালিশহরে। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি নানা জায়গায় ঘুরে দিনমজুর ও ছোটখাটো কাজ করতেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক নারীকে বিয়ে করেন। তবে সেই সংসারও বেশিদিন টেকেনি।

পরিবার না থাকায় সদর থানা মানবিক সংগঠন ‘বাতিঘর’কে বিষয়টি জানায়। সংগঠনটি শরিয়াহ অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন বলেন, “বাতিঘরের এ উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক। পরিবার মরদেহ না নেওয়ায় আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছিলাম।”

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই না, কোনো মানুষ মৃত্যুর পরও অবহেলার শিকার হোক। সমাজের অবহেলিত, নামহীন, পরিবারবিচ্ছিন্ন মানুষদের মর্যাদাপূর্ণ শেষ বিদায় দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দাফন সম্পন্ন করল বাতিঘর

বাবার মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি ছেলের

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানসহ পরিবারের কেউ মরদেহ গ্রহণে রাজি হননি। মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ উদ্যোগ নিয়ে তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করে।

৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইব্রাহিম ৩০ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মৃত্যু হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ছেলের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ছেলে ইসরাফিল সিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানান।

ইব্রাহিমের জন্ম ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের হালিশহরে। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি নানা জায়গায় ঘুরে দিনমজুর ও ছোটখাটো কাজ করতেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক নারীকে বিয়ে করেন। তবে সেই সংসারও বেশিদিন টেকেনি।

পরিবার না থাকায় সদর থানা মানবিক সংগঠন ‘বাতিঘর’কে বিষয়টি জানায়। সংগঠনটি শরিয়াহ অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন বলেন, “বাতিঘরের এ উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক। পরিবার মরদেহ না নেওয়ায় আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছিলাম।”

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই না, কোনো মানুষ মৃত্যুর পরও অবহেলার শিকার হোক। সমাজের অবহেলিত, নামহীন, পরিবারবিচ্ছিন্ন মানুষদের মর্যাদাপূর্ণ শেষ বিদায় দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”