বান্দরবানে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
- / 511
বান্দরবানে গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টি চলছে, আবার থেমে থেমে অতিভারী বৃষ্টিপাতও শুরু হয়েছে। এই বিরতিহীন বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় শহরের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সতর্ক করতে প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বান্দরবান সদরসহ সাতটি উপজেলায় ২২০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবান সদর উপজেলায় ৪৬টি, রুমায় ২৮টি, রোয়াংছড়িতে ১৯টি, থানচিতে ১৫টি, লামায় ৫৫টি, আলীকদমে ১৫টি এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোর থেকে থেমে থেমে চলা অতিভারী বৃষ্টির কারণে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও পাহাড় ধসে বাড়িঘরে মাটি ঢুকে পড়েছে, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, গত এক দশকে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসে অন্তত ১০৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবানসহ চারটি পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।
বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া, বালাঘাটা আমবাগান পাড়া, লেমুঝিড়ি প্রভৃতি নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। টানা বর্ষণের ফলে শঙ্খ নদী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে। শঙ্খ নদীর তীরে যেসব বসতঘর রয়েছে, সেগুলোর কিনারায় পানি পৌঁছে গেছে। এসব ঘরের বাসিন্দারা মালামাল নিয়ে আগাম আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শহরের বনরূপা, বীর বাহাদুর নগর ও আর্মি পাড়ার বাসিন্দা মনজেল আলম, খুরশিদা আক্তার ও মর্জিনা জানান, সামান্য কিছু টাকা দিয়ে পাহাড়ের ঢালে জমি কিনে ঘর তুলেছেন তারা। সমতলে জমি কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। তারা আরও বলেন, ছোট্ট একটি খাল (ম্যাক্সি খাল) দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয়, কিন্তু খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা নিনি জানান, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই বন্যায় প্লাবিত এলাকা ও পূর্বে যেসব জায়গায় ভূমিধস ঘটেছিল, সেগুলোকে চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।





































