আতঙ্কে সীমান্তবাসী
বান্দরবান সীমান্তে তিন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 119
বাংলাদেশের বান্দরবান সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর মধ্যে চলমান সংঘর্ষে সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু চাকমাপাড়া সীমান্তের ওপারে, আন্তর্জাতিক সীমারেখার ৩৪ নম্বর পিলার থেকে তিন থেকে চারশ মিটার ভেতরে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। রাতভর থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরে বসে রাত কাটান, অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র চলে যান।
রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) জানায়, সংঘর্ষটি মূলত সীমান্ত পিলার ৫৫ ও ৫৬-এর মধ্যবর্তী এলাকায় এবং বুচিটং সীমান্ত চৌকির দায়িত্বাধীন এলাকায় ঘটেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “পোয়ামুহুরী ও বুচিটং সীমান্ত চৌকির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এ সংঘর্ষের খবর আমরা নিশ্চিত করেছি। সীমান্তে কোনো সংঘর্ষ হয়নি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ওপারের কুরিকপাতা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় গত এক মাসে অন্তত চারবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠী জানিয়েছে।
সীমান্তসংলগ্ন সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৩৪ থেকে ৫৭ পর্যন্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই গরু ও মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পথের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিযোগিতা সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মূল কারণ।
বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, থানচি ও রুমা সীমান্তে বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি কার্যক্রম। রামু ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, “এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।”
































