ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাসপোর্ট–এনআইডি নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 98

টিউলিপ

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে। তার দাবি, তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে এসব কাগজপত্র জাল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টিউলিপের এই অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব নথিপত্র দেখা গেছে, তাতে উল্লেখ আছে সাবেক লেবার মন্ত্রী টিউলিপের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে। তবে তা তার আগের দাবির সঙ্গে মেলে না।

যুক্তরাজ্যের এই এমপির একজন মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফ-কে বলেন, প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “তারা (বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ) টিউলিপের আইনজীবী দলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি, ভিত্তিহীন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও দেয়নি। এবার তারা এমন কাগজপত্র জাল করেছে, যা পুরোপুরি ভুয়া এবং জাল করার সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে।”

নথিপত্রের সত্যতা নিয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন ওই মুখপাত্র।

নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালে ১৯ বছর বয়সে টিউলিপ বাংলাদেশের পাসপোর্ট পান। আর ২০১১ সালে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেন। একই বছরে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে নবায়নের জন্য আবেদনও করেছিলেন বলে উল্লেখ আছে।

তবে টিউলিপের সহযোগীরা এসব নথিতে নানা অসংগতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, নথিপত্রে তার ঠিকানা হিসেবে ঢাকার একটি বাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে, যা তার খালা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন। কিন্তু টিউলিপ কোনোদিন ঢাকায় থাকেননি।

তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে, টিউলিপ কোনো দিন বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র নেননি। শুধু শৈশবে তিনি একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছিলেন।

তারা আরও বলছে, বিষয়টা সন্দেহজনক যে পরিচয়পত্রটি নতুন ‘স্মার্ট কার্ড’ ফরম্যাটে নেই। স্মার্ট কার্ড হলে সহজেই তা যাচাই করা যেত।

ধারণা করা হচ্ছে, এসব নথিপত্র বাংলাদেশের একটি চলমান দুর্নীতি মামলায় টিউলিপের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি তার খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে মা, ভাই ও বোনের জন্য প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। মামলাটি বর্তমানে তার অনুপস্থিতিতে চলছে।

টিউলিপের মা–বাবা দুজনেই বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ায় তার যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ—দুই দেশের নাগরিকত্ব রাখার সুযোগ রয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান স্টিফেনসন হারউডের এক মুখপাত্র চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে জানিয়েছিলেন, টিউলিপের কখনো বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি ছিল না। শৈশবের পর থেকে তিনি কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্টও ব্যবহার করেননি।

বিগত কয়েক বছরে টিউলিপ বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাসপোর্ট–এনআইডি নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ

সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে। তার দাবি, তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে এসব কাগজপত্র জাল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টিউলিপের এই অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব নথিপত্র দেখা গেছে, তাতে উল্লেখ আছে সাবেক লেবার মন্ত্রী টিউলিপের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে। তবে তা তার আগের দাবির সঙ্গে মেলে না।

যুক্তরাজ্যের এই এমপির একজন মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফ-কে বলেন, প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “তারা (বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ) টিউলিপের আইনজীবী দলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি, ভিত্তিহীন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও দেয়নি। এবার তারা এমন কাগজপত্র জাল করেছে, যা পুরোপুরি ভুয়া এবং জাল করার সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে।”

নথিপত্রের সত্যতা নিয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন ওই মুখপাত্র।

নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালে ১৯ বছর বয়সে টিউলিপ বাংলাদেশের পাসপোর্ট পান। আর ২০১১ সালে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেন। একই বছরে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে নবায়নের জন্য আবেদনও করেছিলেন বলে উল্লেখ আছে।

তবে টিউলিপের সহযোগীরা এসব নথিতে নানা অসংগতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, নথিপত্রে তার ঠিকানা হিসেবে ঢাকার একটি বাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে, যা তার খালা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন। কিন্তু টিউলিপ কোনোদিন ঢাকায় থাকেননি।

তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে, টিউলিপ কোনো দিন বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র নেননি। শুধু শৈশবে তিনি একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছিলেন।

তারা আরও বলছে, বিষয়টা সন্দেহজনক যে পরিচয়পত্রটি নতুন ‘স্মার্ট কার্ড’ ফরম্যাটে নেই। স্মার্ট কার্ড হলে সহজেই তা যাচাই করা যেত।

ধারণা করা হচ্ছে, এসব নথিপত্র বাংলাদেশের একটি চলমান দুর্নীতি মামলায় টিউলিপের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি তার খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে মা, ভাই ও বোনের জন্য প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। মামলাটি বর্তমানে তার অনুপস্থিতিতে চলছে।

টিউলিপের মা–বাবা দুজনেই বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ায় তার যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ—দুই দেশের নাগরিকত্ব রাখার সুযোগ রয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান স্টিফেনসন হারউডের এক মুখপাত্র চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে জানিয়েছিলেন, টিউলিপের কখনো বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি ছিল না। শৈশবের পর থেকে তিনি কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্টও ব্যবহার করেননি।

বিগত কয়েক বছরে টিউলিপ বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন।