ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিশু অধিকার-বাল্য বিবাহ নিয়ে স্বোচ্ছার

বস্তির অন্ধকার থেকে বিশ্বমঞ্চে গাজীপুরের নাঈম

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী (গাজীপুর)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • / 869

বস্তির অন্ধকার থেকে বিশ্বমঞ্চে গাজীপুরের নাঈম

এক সময় গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় একটি বস্তিতে বেড়ে ওঠা এক নীরব, এতিম শিশু। আজ সেই কিশোর নাঈম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর। শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ ও পাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি হয়েছেন অগ্রপথিক। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশনের ইয়ুথ ফোরামের সহ-সভাপতি এবং লন্ডনের The Legacy Project-এর গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করছেন।

২০ বছর বয়সী নাঈম বলেন, “মিতার নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনে আমি নিজেই থানায় ছুটে যাই। সাত দিন পর ওকে ফিরে পেয়ে মনে হয়েছিল, যেন আমার নিজের বোন ফিরে এসেছে।”

করোনাকালে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে নাঈম নিজ এলাকায় একাই রুখে দিয়েছেন ১০০টির বেশি বাল্যবিবাহ। শিশুপাচার ঠেকানো, যৌন নিপীড়নের শিকারদের পাশে দাঁড়ানো, ধর্ষণের মামলায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা—সবখানেই রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা।

এই পথ সহজ ছিল না। বাবা-মা হারা নাঈম নানির কাছে বড় হয়েছেন। একদিন স্থানীয় শিশু ফোরামের একটি বৈঠকে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন—তিনিও একজন অধিকার থেকে বঞ্চিত শিশু। সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবন বদলের যাত্রা।

নাঈম এখন শিশু অধিকার, সাংবাদিকতা ও আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি নিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন সংগঠক। তিনি স্কুল, কলেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সচেতন করছেন শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ ও পাচার প্রতিরোধ বিষয়ে।
“আগে পুলিশ-প্রশাসনকে ভয় পেতাম। এখন আমি তাদের সঙ্গে শিশুর পক্ষে কাজ করি,” বলেন তিনি। “আমি শুধু একজন কর্মী নই, আমি একটি পরিবর্তনের প্রতীক।”

নাঈমের কাজ পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। The Beacon পত্রিকা তাকে “International Hero” উপাধিতে ভূষিত করেছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনাল, কানাডা ও বাংলাদেশে একাধিকবার সম্মানিত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি The Legacy Project-এর গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

“পরিবর্তন সহজ নয়,” বলেন নাঈম। “আমার স্বপ্ন—একটি নিরাপদ সমাজ, যেখানে কোনো শিশু আর নির্যাতনের শিকার হবে না। মানুষ যেমন আমাকে সাহস দিয়েছে, আমি চাই প্রতিটি শিশু সেই সাহসটুকু পাক।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিশু অধিকার-বাল্য বিবাহ নিয়ে স্বোচ্ছার

বস্তির অন্ধকার থেকে বিশ্বমঞ্চে গাজীপুরের নাঈম

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

এক সময় গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় একটি বস্তিতে বেড়ে ওঠা এক নীরব, এতিম শিশু। আজ সেই কিশোর নাঈম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর। শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ ও পাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি হয়েছেন অগ্রপথিক। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশনের ইয়ুথ ফোরামের সহ-সভাপতি এবং লন্ডনের The Legacy Project-এর গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করছেন।

২০ বছর বয়সী নাঈম বলেন, “মিতার নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনে আমি নিজেই থানায় ছুটে যাই। সাত দিন পর ওকে ফিরে পেয়ে মনে হয়েছিল, যেন আমার নিজের বোন ফিরে এসেছে।”

করোনাকালে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে নাঈম নিজ এলাকায় একাই রুখে দিয়েছেন ১০০টির বেশি বাল্যবিবাহ। শিশুপাচার ঠেকানো, যৌন নিপীড়নের শিকারদের পাশে দাঁড়ানো, ধর্ষণের মামলায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা—সবখানেই রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা।

এই পথ সহজ ছিল না। বাবা-মা হারা নাঈম নানির কাছে বড় হয়েছেন। একদিন স্থানীয় শিশু ফোরামের একটি বৈঠকে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন—তিনিও একজন অধিকার থেকে বঞ্চিত শিশু। সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবন বদলের যাত্রা।

নাঈম এখন শিশু অধিকার, সাংবাদিকতা ও আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি নিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন সংগঠক। তিনি স্কুল, কলেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সচেতন করছেন শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ ও পাচার প্রতিরোধ বিষয়ে।
“আগে পুলিশ-প্রশাসনকে ভয় পেতাম। এখন আমি তাদের সঙ্গে শিশুর পক্ষে কাজ করি,” বলেন তিনি। “আমি শুধু একজন কর্মী নই, আমি একটি পরিবর্তনের প্রতীক।”

নাঈমের কাজ পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। The Beacon পত্রিকা তাকে “International Hero” উপাধিতে ভূষিত করেছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনাল, কানাডা ও বাংলাদেশে একাধিকবার সম্মানিত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি The Legacy Project-এর গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

“পরিবর্তন সহজ নয়,” বলেন নাঈম। “আমার স্বপ্ন—একটি নিরাপদ সমাজ, যেখানে কোনো শিশু আর নির্যাতনের শিকার হবে না। মানুষ যেমন আমাকে সাহস দিয়েছে, আমি চাই প্রতিটি শিশু সেই সাহসটুকু পাক।”