ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 95

বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি। এছাড়াও, আওয়ামী লীগের বিষয়ে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও সেভাবে নেওয়া যেতে পারে বলেও প্রধান উপদেষ্টাকে জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এমনটা জানান জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, সুন্দর পরিবেশে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কী কী করণীয়, এ সকল বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। প্রথম হলো কিছু বিষয় সংস্কার করা হবে। বিচার দৃশ্যমান করা হবে। বিশ্বমানের আনন্দঘন নির্বাচন হবে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, এক বছরের অধিক সময় ধরে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কিছু ভালো বিষয় আছে। বেশ কিছু বড় ইস্যুতে একমত হয়েছি, আবার কিছু সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট আছে। সবসময় দুই-তৃতীয়াংশ দল একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া যেতে পারে, তবে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় না। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্টেও একমত হয়েছি, সেগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

নায়েবে আমীর বলেন, কিছু দল ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছেন সংস্কার আগামী নির্বাচিত সরকার করবে। তাদেরই যদি করতে হয়, তাহলে এক বছর সময় নষ্ট হলো কেন? জুলাইয়ের পর অনেক পরিবর্তন চেয়েছিলাম, সেটা যেন আইনি প্রক্রিয়ায় হয়। এটি না হলে জুলাইয়ের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। চার্টারের তিনটি বিষয় আছে। আমরা চার্টারের বাস্তবায়ন চাই। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচনের আগেই কিছুটা বিচার হয়ে যাবে, আমরা একমত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন অবাধ নির্বাচন হবে। আমরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছি, কিন্তু কার্যকারিতার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছি। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। লন্ডনে গিয়ে তারিখ ঘোষণার ঘটনায় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন রয়েছে। জুলাই ঘোষণা সকল দলের সঙ্গে আলোচনায় হয়নি। এতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। একই দিনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা মনে হচ্ছে চাপের মধ্যে করা হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল জুলাই সনদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার পর নির্বাচন ঘোষণা করা। আমাদের নির্বাচনের তারিখ নিয়ে দ্বিমত নেই। জুলাই চার্টার হতে হবে। এটি অর্জন না করে নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে দেওয়া অন্যরকম ব্যাপার। একটি দল যেভাবে চেয়েছে, সেভাবে হয়েছে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে ৩১ দলের মধ্যে ২৫ দল একমত হয়েছে। কেউ উচ্চকক্ষে পিআর চায়, আর আমরা সবজায়গায় চাই। গত নির্বাচনে ভোট ডাকাতি সহ অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি নতুন সিস্টেমে নির্বাচন দরকার। নাহলে আবার এমন হবে। আমরা বলেছি, এই বিষয়ে নতুন প্রস্তাব আনার বিষয়ে ইসিকে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের অবজ্ঞা করে একই সংস্কৃতিতে নির্বাচন হলে আমরা সংকটে পড়বো, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সকলের সন্তুষ্টি, সম্মতি এবং নির্ধারিত সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

নুরুল হক নুরের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, যেভাবে তার ওপর হামলা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয় স্বাধীনতার নায়কের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ সময় হামলার দোষীদের কঠিনভাবে শাস্তি দেওয়ার কথাও জানান তারা।

প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি, সব ঠিক হয়ে যাবে বলবেন, আবার দেখবেন নির্বাচনে অনিয়ম হবে, রাতেও দুঃখ প্রকাশ করবেন; এগুলো হবে না। এই সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। যে সরকার এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেই সরকার কীভাবে নির্বাচন করবে, আমরা তা নিয়ে শঙ্কিত। পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে চলে যাবে। কোনও নীল নকশা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে না। এই সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি। এছাড়াও, আওয়ামী লীগের বিষয়ে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও সেভাবে নেওয়া যেতে পারে বলেও প্রধান উপদেষ্টাকে জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এমনটা জানান জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, সুন্দর পরিবেশে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কী কী করণীয়, এ সকল বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। প্রথম হলো কিছু বিষয় সংস্কার করা হবে। বিচার দৃশ্যমান করা হবে। বিশ্বমানের আনন্দঘন নির্বাচন হবে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, এক বছরের অধিক সময় ধরে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কিছু ভালো বিষয় আছে। বেশ কিছু বড় ইস্যুতে একমত হয়েছি, আবার কিছু সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট আছে। সবসময় দুই-তৃতীয়াংশ দল একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া যেতে পারে, তবে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় না। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্টেও একমত হয়েছি, সেগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

নায়েবে আমীর বলেন, কিছু দল ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছেন সংস্কার আগামী নির্বাচিত সরকার করবে। তাদেরই যদি করতে হয়, তাহলে এক বছর সময় নষ্ট হলো কেন? জুলাইয়ের পর অনেক পরিবর্তন চেয়েছিলাম, সেটা যেন আইনি প্রক্রিয়ায় হয়। এটি না হলে জুলাইয়ের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। চার্টারের তিনটি বিষয় আছে। আমরা চার্টারের বাস্তবায়ন চাই। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচনের আগেই কিছুটা বিচার হয়ে যাবে, আমরা একমত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন অবাধ নির্বাচন হবে। আমরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছি, কিন্তু কার্যকারিতার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছি। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। লন্ডনে গিয়ে তারিখ ঘোষণার ঘটনায় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন রয়েছে। জুলাই ঘোষণা সকল দলের সঙ্গে আলোচনায় হয়নি। এতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। একই দিনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা মনে হচ্ছে চাপের মধ্যে করা হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল জুলাই সনদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার পর নির্বাচন ঘোষণা করা। আমাদের নির্বাচনের তারিখ নিয়ে দ্বিমত নেই। জুলাই চার্টার হতে হবে। এটি অর্জন না করে নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে দেওয়া অন্যরকম ব্যাপার। একটি দল যেভাবে চেয়েছে, সেভাবে হয়েছে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে ৩১ দলের মধ্যে ২৫ দল একমত হয়েছে। কেউ উচ্চকক্ষে পিআর চায়, আর আমরা সবজায়গায় চাই। গত নির্বাচনে ভোট ডাকাতি সহ অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি নতুন সিস্টেমে নির্বাচন দরকার। নাহলে আবার এমন হবে। আমরা বলেছি, এই বিষয়ে নতুন প্রস্তাব আনার বিষয়ে ইসিকে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের অবজ্ঞা করে একই সংস্কৃতিতে নির্বাচন হলে আমরা সংকটে পড়বো, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সকলের সন্তুষ্টি, সম্মতি এবং নির্ধারিত সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

নুরুল হক নুরের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, যেভাবে তার ওপর হামলা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয় স্বাধীনতার নায়কের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ সময় হামলার দোষীদের কঠিনভাবে শাস্তি দেওয়ার কথাও জানান তারা।

প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি, সব ঠিক হয়ে যাবে বলবেন, আবার দেখবেন নির্বাচনে অনিয়ম হবে, রাতেও দুঃখ প্রকাশ করবেন; এগুলো হবে না। এই সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। যে সরকার এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেই সরকার কীভাবে নির্বাচন করবে, আমরা তা নিয়ে শঙ্কিত। পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে চলে যাবে। কোনও নীল নকশা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে না। এই সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।