ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুন ২০২৫
  • / 845

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ শুরু হলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চলতি বছর চামড়ার দাম প্রতি পিসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়লেও বাজারের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

ঈদের দিন শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়। অন্যান্য বছরের মতো এবারও এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক হারে চামড়া সংগ্রহ করা হয়। দুপুরের পর এসব চামড়া হাটখোলা ও পদ্মাবতী এলাকার পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

চামড়া সংগ্রহে অংশ নিয়েছেন অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এবার সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন এবং আগের মতো সিন্ডিকেটের প্রভাব না থাকায় দাম তুলনামূলক ভালো মিলছে। ফলে কেউ কেউ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে কিছু ব্যবসায়ী জানান, বেশিরভাগ কোরবানি দাতাই এবার চামড়া মাদ্রাসা বা এতিমখানায় দান করায় বাজারে চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কম। পাশাপাশি, আড়তদাররা ন্যায্যমূল্যে চামড়া কিনছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় ভালো মানের লবণযুক্ত গরুর চামড়া ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা।

ছাগলের চামড়া নিয়ে এবারও আগ্রহ কম দেখা গেছে। আড়তদাররা এ ধরনের চামড়ার ভালো দাম দিতে আগ্রহী নন, যার ফলে বিক্রেতারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা
বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

আড়তদারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় নগদ টাকার সংকটে তারা বড় পরিসরে চামড়া সংগ্রহ করতে পারছেন না।

বরিশাল হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমরা গরুর চামড়া কাউকে ফিরিয়ে দিচ্ছি না, দরদাম করে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ছাগলের চামড়া সংরক্ষণের খরচ ট্যানারি মালিকরা দেন না, ফলে সেখানে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বরিশাল মহানগরীতে এবার অন্তত ৫০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ সম্ভব হবে। তবে চামড়ার বাজারে স্বচ্ছতা ও মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুন ২০২৫

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ শুরু হলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চলতি বছর চামড়ার দাম প্রতি পিসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়লেও বাজারের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

ঈদের দিন শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়। অন্যান্য বছরের মতো এবারও এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক হারে চামড়া সংগ্রহ করা হয়। দুপুরের পর এসব চামড়া হাটখোলা ও পদ্মাবতী এলাকার পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

চামড়া সংগ্রহে অংশ নিয়েছেন অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এবার সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন এবং আগের মতো সিন্ডিকেটের প্রভাব না থাকায় দাম তুলনামূলক ভালো মিলছে। ফলে কেউ কেউ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে কিছু ব্যবসায়ী জানান, বেশিরভাগ কোরবানি দাতাই এবার চামড়া মাদ্রাসা বা এতিমখানায় দান করায় বাজারে চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কম। পাশাপাশি, আড়তদাররা ন্যায্যমূল্যে চামড়া কিনছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় ভালো মানের লবণযুক্ত গরুর চামড়া ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা।

ছাগলের চামড়া নিয়ে এবারও আগ্রহ কম দেখা গেছে। আড়তদাররা এ ধরনের চামড়ার ভালো দাম দিতে আগ্রহী নন, যার ফলে বিক্রেতারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা
বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

আড়তদারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় নগদ টাকার সংকটে তারা বড় পরিসরে চামড়া সংগ্রহ করতে পারছেন না।

বরিশাল হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমরা গরুর চামড়া কাউকে ফিরিয়ে দিচ্ছি না, দরদাম করে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ছাগলের চামড়া সংরক্ষণের খরচ ট্যানারি মালিকরা দেন না, ফলে সেখানে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বরিশাল মহানগরীতে এবার অন্তত ৫০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ সম্ভব হবে। তবে চামড়ার বাজারে স্বচ্ছতা ও মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।