বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ জামায়াত আমিরের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 16
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার ঘোষণা ও কর্নেল অলি আহমদের ভূমিকা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বক্তব্য ভিন্নভাবে প্রকাশ করে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগের দিন চট্টগ্রামে দেওয়া তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকৃত অর্থের বাইরে গিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে জনগণের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
চট্টগ্রামের জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা সেখান থেকেই হয়েছিল এবং এলডিপির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রথম ‘উই রিভল্ট’ বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ময়মনসিংহের সমাবেশে তিনি বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে কথা বলেছেন, কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্য তার সঙ্গে মিলেনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি কী বললাম আর পত্রিকায় কী লেখা হলো, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিষয়টি সত্যিই আশ্চর্যজনক।”
তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করে বক্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “আমি এক কথা বলি, তারা আরেক কথা লেখে। প্রতিবাদ জানালে সেটি খুব ছোট করে ছাপা হয়। ততক্ষণে চরিত্রহননের কাজ শেষ হয়ে যায়।”
তবে সব গণমাধ্যম একইভাবে কাজ করে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “মিডিয়া জাতির দর্পণ। কিন্তু এটাও সত্য, সব গণমাধ্যম এমন নয়। সমাজকে অস্থির ও অশান্ত করতে দু-একজনই যথেষ্ট।”
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার বক্তব্য পছন্দ না হলে প্রকাশ না করলেও সমস্যা নেই, কিন্তু প্রকাশ করলে তা হুবহু উপস্থাপন করতে হবে। নিজের ব্যাখ্যা বা কল্পনা মিশিয়ে বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এভাবে বক্তব্য বিকৃত করলে তা আমার ওপর জুলুম হবে। আমার কথা পছন্দ না হলে প্রচার না করলেও আপত্তি নেই। তবে প্রচার করলে আমার কথাই আমার মতো করে প্রকাশ করতে হবে।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ এখন পুরোনো ও পচা রাজনীতি আর চায় না। তার দাবি, শুরুতে যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন, তারাও এখন জনমত বুঝে অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
তিনি বলেন, “জনগণ এখন উত্তাল। তারা আর দলীয় সরকার দেখতে চায় না। অনেকেই এখন বলতে শুরু করেছেন—আমরাও ‘হ্যাঁ’।”
ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৩ তারিখের পর জনগণের ভোটে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। তার মতে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে পুরো ময়মনসিংহ বিভাগে একটি কৃষি বিপ্লব ঘটবে।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল হাসান এমরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনসহ নেত্রকোণা জেলার জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।































