ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বিলম্বের কারণ জানালো বেবিচক

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 192

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে, তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বেবিচক ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) প্রোটোকল মেনেই শাহজালাল বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বিমানবন্দরে নিয়মিত ফায়ার ড্রিল হয়—সপ্তাহে অন্তত এক দিন অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি আগুন লাগার পরও আইসিএওর সব নিয়ম অনুসরণ করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

গত শনিবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে, যা সম্পূর্ণ নেভাতে সময় লাগে প্রায় ২৬ ঘণ্টা। যদিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পণ্য ও কাঁচামাল পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, “আগুনের কারণে বিমানবন্দরের কার্গো অপারেশন একদিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি। ৯ নম্বর গেট দিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত আছে।”

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কোনো একটি আমদানি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে। এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “রানওয়ের অ্যাপ্রনের পাশে পণ্যসামগ্রী স্তূপ করে রাখার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে এটি বেবিচকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা নয়। দায়ভার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ঢাকা কাস্টম হাউস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের।”

তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ২১ দিনের মধ্যে পণ্য অপসারণের কথা থাকলেও বছরের পর বছর অনেক পণ্য পড়ে থাকে। “তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংস্থার ওপর দায় চাপানো হবে না,” যোগ করেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে—এই অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই অভিযোগ সত্য নয়। আমি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও এমন কোনো অভিযোগ করেননি। তবে যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সটি আমাদের মালিকানাধীন, তবে ভেতরের কার্যক্রম পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ঢাকা কাস্টম হাউস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে নতুন কার্গো ভবন হস্তান্তর প্রক্রিয়া আর্থিক জটিলতায় আটকে আছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যে অর্থ দাবি করছে, তার সঙ্গে সরকারের প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পার্থক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, “এখানে একটি আর্থিক সমঝোতার বিষয় আছে। আমরা চাই চূড়ান্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হোক, যাতে নতুন কার্গো ভবন দ্রুত চালু করা যায়।”

বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থাকলেও বেবিচক জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই দায় নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বিলম্বের কারণ জানালো বেবিচক

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে, তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বেবিচক ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) প্রোটোকল মেনেই শাহজালাল বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বিমানবন্দরে নিয়মিত ফায়ার ড্রিল হয়—সপ্তাহে অন্তত এক দিন অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি আগুন লাগার পরও আইসিএওর সব নিয়ম অনুসরণ করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

গত শনিবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে, যা সম্পূর্ণ নেভাতে সময় লাগে প্রায় ২৬ ঘণ্টা। যদিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পণ্য ও কাঁচামাল পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, “আগুনের কারণে বিমানবন্দরের কার্গো অপারেশন একদিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি। ৯ নম্বর গেট দিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত আছে।”

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কোনো একটি আমদানি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে। এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “রানওয়ের অ্যাপ্রনের পাশে পণ্যসামগ্রী স্তূপ করে রাখার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে এটি বেবিচকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা নয়। দায়ভার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ঢাকা কাস্টম হাউস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের।”

তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ২১ দিনের মধ্যে পণ্য অপসারণের কথা থাকলেও বছরের পর বছর অনেক পণ্য পড়ে থাকে। “তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংস্থার ওপর দায় চাপানো হবে না,” যোগ করেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে—এই অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই অভিযোগ সত্য নয়। আমি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও এমন কোনো অভিযোগ করেননি। তবে যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সটি আমাদের মালিকানাধীন, তবে ভেতরের কার্যক্রম পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ঢাকা কাস্টম হাউস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে নতুন কার্গো ভবন হস্তান্তর প্রক্রিয়া আর্থিক জটিলতায় আটকে আছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যে অর্থ দাবি করছে, তার সঙ্গে সরকারের প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পার্থক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, “এখানে একটি আর্থিক সমঝোতার বিষয় আছে। আমরা চাই চূড়ান্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হোক, যাতে নতুন কার্গো ভবন দ্রুত চালু করা যায়।”

বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থাকলেও বেবিচক জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই দায় নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।