ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পাস না করে প্রাণ দিল ২ কিশোরী, হাসপাতালে ৩

ফলাফল নয়, ফিরে এলো কফিন: বরিশালের করুণ সকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / 347

ফলাফল নয়, ফিরে এলো কফিন

যেখানে পরীক্ষার ফলাফলকে ঘিরে থাকার কথা আনন্দের উচ্ছ্বাস, উৎসবের আমেজ—সেখানে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের ঘন ছায়া। বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর হতাশ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে পাঁচ শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে থাকা তিনজন এখনও চিকিৎসাধীন।

মারা যাওয়া এই দুই কিশোরী হলো হিজলা উপজেলার অর্পিতা ও বাবুগঞ্জের মিম ইসলাম। অর্পিতা এলাকার বিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী, আর মিম বাহেরচর কাজল খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ফল প্রত্যাশিত না হওয়ায় অর্পিতা গলায় ফাঁস দিলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মিমের ক্ষেত্রেও গল্পটি প্রায় একই—ফলাফলে অকৃতকার্য হয়ে বিষপান করে সে। পরিবারের সদস্যরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, পরীক্ষায় পাস না করায় একইদিন হিজলার মুর্শিদা আক্তার ইমা, বাকেরগঞ্জের তনী ও মুর্ছনা বিষ ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এসব ঘটনায় মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে শিক্ষাবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফলাফলে হতাশ হয়ে শিক্ষার্থীদের এমন চরম পদক্ষেপ রোধে পরিবার ও সমাজের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি। “ফলাফল জীবনের শেষ নয়”—এই বার্তাটি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। ৮২ হাজার ৯৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে ৪৬ হাজার ৭৫৮ জন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাস না করে প্রাণ দিল ২ কিশোরী, হাসপাতালে ৩

ফলাফল নয়, ফিরে এলো কফিন: বরিশালের করুণ সকাল

সর্বশেষ আপডেট ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

যেখানে পরীক্ষার ফলাফলকে ঘিরে থাকার কথা আনন্দের উচ্ছ্বাস, উৎসবের আমেজ—সেখানে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের ঘন ছায়া। বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর হতাশ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে পাঁচ শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে থাকা তিনজন এখনও চিকিৎসাধীন।

মারা যাওয়া এই দুই কিশোরী হলো হিজলা উপজেলার অর্পিতা ও বাবুগঞ্জের মিম ইসলাম। অর্পিতা এলাকার বিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী, আর মিম বাহেরচর কাজল খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ফল প্রত্যাশিত না হওয়ায় অর্পিতা গলায় ফাঁস দিলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মিমের ক্ষেত্রেও গল্পটি প্রায় একই—ফলাফলে অকৃতকার্য হয়ে বিষপান করে সে। পরিবারের সদস্যরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, পরীক্ষায় পাস না করায় একইদিন হিজলার মুর্শিদা আক্তার ইমা, বাকেরগঞ্জের তনী ও মুর্ছনা বিষ ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এসব ঘটনায় মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে শিক্ষাবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফলাফলে হতাশ হয়ে শিক্ষার্থীদের এমন চরম পদক্ষেপ রোধে পরিবার ও সমাজের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি। “ফলাফল জীবনের শেষ নয়”—এই বার্তাটি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। ৮২ হাজার ৯৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে ৪৬ হাজার ৭৫৮ জন।