ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও আদিবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 58

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন, পাহাড়ের দূরবর্তী অঞ্চলের ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সমতলের আদিবাসীদের নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দাবিসহ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। মূল বক্তব্য দেন একই আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

জাকির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির অংশগ্রহণ সর্বদা সীমিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্খা ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তারা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কার অব্যাহত রাখবে এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নসহ আদিবাসীদের নাগরিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে—এটাই আন্দোলনের বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ের আদিবাসীরা দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনুন্নত সড়ক ও নৌ যোগাযোগের কারণে সেবা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সামরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক কাঠামোর অস্থিতিশীলতার কারণে তারা রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না। জনগণনা ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণেও তারা পিছিয়ে পড়েন—বিস্তারিতভাবে বললে, ভোটকেন্দ্র থেকে দূরত্ব ও যোগাযোগের সমস্যা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন জনপদের আদিবাসীরা যাতায়াতের জন্য নৌযানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহন ব্যতীত অন্যান্য সব যোগাযোগের বাহন নিষিদ্ধ হওয়ায় নৌভিত্তিক আদিবাসীরা ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত হন বা নিরুৎসাহিত হন। এই ভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই নিয়ম শিথিল করা প্রয়োজন।

এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় আদিবাসী ভোটারদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনীর অহেতুক তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধ করার দাবি তোলা হয়।

জাকির হোসেন আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চল ছাড়াও সমতলের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসীরা বসবাস করছে। জাতিগত পরিচয়হীনতা, ভূমি অধিকারহীনতা ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় তারা সহিংসতা, নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপে তাদের ওপর নির্যাতন বাড়ে। তাই নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, আদিবাসীদের সমস্যা শুধুমাত্র পার্বত্য অঞ্চলের নয়—এটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দরকার। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগী ভূমিকা দেখতে চাই। তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় আদিবাসী ভোটাররা হয়রানির শিকার হন। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামি নির্বাচন অতীতের থেকে ভালো হলে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ভোট দিতে আসা আদিবাসীদের যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক দলকে নিবন্ধিত করার সুযোগ নেই। তবে পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক দলের ভূমিকা ও প্রয়োজন বিবেচনায় এই সুযোগ থাকা উচিত। তিনি বলেন, নির্বাচন নিবন্ধন আইনে সংশোধন করে আঞ্চলিক দলকে ভোটাধিকারের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাহাড়ের সমস্যা সমতলের সমস্যা নয়—পাহাড়কে সমতলের চোখে দেখে সমাধান করা যাবে না। তাই পাহাড়ের মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন হওয়া দরকার এবং এই পরিষদগুলোকে আরও সচল করতে হবে।

আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা বলেন, বাংলাদেশের জন্ম লগ্ন থেকে আদিবাসীদের ওপর যে নির্যাতন চলছে তা সবাই জানে। বর্তমানে যে অসুস্থ পরিবেশ চলছে, ভবিষ্যতে আদিবাসী নারী ও আদিবাসীদের অবস্থা কী হবে তা জানা যায় না। তিনি বলেন, আদিবাসীদের সমস্যার কথা কেউ সরাসরি বলছে না এবং কোনো রাজনৈতিক দল তাদের ডাকে না—এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখজনক বিষয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন নির্বাচনী পরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অসাম্প্রদায়িক করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে:

অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি:
১. দূরবর্তী পাহাড়ের আদিবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আবাসন ও খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা।
২. সমতল ও পাহাড়ে ভোটকেন্দ্রগামী আদিবাসী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করা।

খ. নির্বাচনপন্থী রাজনৈতিক দলসমূহ ও আগামী সরকারের প্রতি দাবি:
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচীভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও দ্রুত বাস্তবায়ন।
২. পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান।
৩. পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে গণতান্ত্রিকীকরণ ও স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করে যথাযথ ক্ষমতায়ন করা।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও আদিবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন, পাহাড়ের দূরবর্তী অঞ্চলের ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সমতলের আদিবাসীদের নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দাবিসহ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। মূল বক্তব্য দেন একই আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

জাকির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির অংশগ্রহণ সর্বদা সীমিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্খা ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তারা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কার অব্যাহত রাখবে এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নসহ আদিবাসীদের নাগরিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে—এটাই আন্দোলনের বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ের আদিবাসীরা দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনুন্নত সড়ক ও নৌ যোগাযোগের কারণে সেবা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সামরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক কাঠামোর অস্থিতিশীলতার কারণে তারা রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না। জনগণনা ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণেও তারা পিছিয়ে পড়েন—বিস্তারিতভাবে বললে, ভোটকেন্দ্র থেকে দূরত্ব ও যোগাযোগের সমস্যা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন জনপদের আদিবাসীরা যাতায়াতের জন্য নৌযানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহন ব্যতীত অন্যান্য সব যোগাযোগের বাহন নিষিদ্ধ হওয়ায় নৌভিত্তিক আদিবাসীরা ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত হন বা নিরুৎসাহিত হন। এই ভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই নিয়ম শিথিল করা প্রয়োজন।

এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় আদিবাসী ভোটারদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনীর অহেতুক তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধ করার দাবি তোলা হয়।

জাকির হোসেন আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চল ছাড়াও সমতলের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসীরা বসবাস করছে। জাতিগত পরিচয়হীনতা, ভূমি অধিকারহীনতা ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় তারা সহিংসতা, নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপে তাদের ওপর নির্যাতন বাড়ে। তাই নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, আদিবাসীদের সমস্যা শুধুমাত্র পার্বত্য অঞ্চলের নয়—এটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দরকার। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগী ভূমিকা দেখতে চাই। তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় আদিবাসী ভোটাররা হয়রানির শিকার হন। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামি নির্বাচন অতীতের থেকে ভালো হলে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ভোট দিতে আসা আদিবাসীদের যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক দলকে নিবন্ধিত করার সুযোগ নেই। তবে পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক দলের ভূমিকা ও প্রয়োজন বিবেচনায় এই সুযোগ থাকা উচিত। তিনি বলেন, নির্বাচন নিবন্ধন আইনে সংশোধন করে আঞ্চলিক দলকে ভোটাধিকারের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাহাড়ের সমস্যা সমতলের সমস্যা নয়—পাহাড়কে সমতলের চোখে দেখে সমাধান করা যাবে না। তাই পাহাড়ের মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন হওয়া দরকার এবং এই পরিষদগুলোকে আরও সচল করতে হবে।

আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা বলেন, বাংলাদেশের জন্ম লগ্ন থেকে আদিবাসীদের ওপর যে নির্যাতন চলছে তা সবাই জানে। বর্তমানে যে অসুস্থ পরিবেশ চলছে, ভবিষ্যতে আদিবাসী নারী ও আদিবাসীদের অবস্থা কী হবে তা জানা যায় না। তিনি বলেন, আদিবাসীদের সমস্যার কথা কেউ সরাসরি বলছে না এবং কোনো রাজনৈতিক দল তাদের ডাকে না—এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখজনক বিষয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন নির্বাচনী পরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অসাম্প্রদায়িক করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে:

অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি:
১. দূরবর্তী পাহাড়ের আদিবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আবাসন ও খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা।
২. সমতল ও পাহাড়ে ভোটকেন্দ্রগামী আদিবাসী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করা।

খ. নির্বাচনপন্থী রাজনৈতিক দলসমূহ ও আগামী সরকারের প্রতি দাবি:
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচীভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও দ্রুত বাস্তবায়ন।
২. পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান।
৩. পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে গণতান্ত্রিকীকরণ ও স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করে যথাযথ ক্ষমতায়ন করা।