পাঁচ লাখ টাকার বিপরীতে সঞ্চয়পত্রে মুনাফায় ৫ শতাংশ কর: এনবিআর
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 4
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় অতিরিক্ত কর কাটার অভিযোগ ও জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্পষ্ট করেছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর হবে ৫ শতাংশ, আর একই সীমার মধ্যে পেনশনার সঞ্চয়পত্র থাকবে পুরোপুরি করমুক্ত।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয়, ৫ শতাংশ হারে কাটা হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা যাবে না।
গত জানুয়ারি থেকে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে আসছিলেন, পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও তাদের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ কর কাটা হচ্ছে। এতে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একাধিক গ্রাহক এই প্রতিবেদককেও তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন।
গ্রাহকদের এসব অভিযোগ এনবিআরের নজরে এলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংস্থাটি উৎসে করের হার সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়।
এনবিআরের চিঠিতে ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ।
এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো আয়বর্ষে শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে থাকলে মুনাফার ওপর করের হার হবে শূন্য শতাংশ, অর্থাৎ কোনো কর কাটা হবে না।
তবে আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা ছাড়ালে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই বিনিয়োগ করতে পারে।
এনবিআরের এই ব্যাখ্যায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমবে এবং সঞ্চয়পত্রে আস্থা ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


































