ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাঁচ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • / 435

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

 

এর আগে গত ৩ জুন চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খারিজ হয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে পুনরায় আবেদন করা হয়েছিল।

 

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, যানবাহন ভাঙচুরসহ পাঁচ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, “মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না। পরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে এসব মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ।”

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় ১ জুলাই পুলিশ যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, তাতে বলা হয়—চিন্ময় দাসের উসকানি ও নির্দেশেই সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

 

গত ৫ মে আদালতের আদেশে চিন্ময় দাসকে সাইফুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এ হত্যা মামলায় চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

 

এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা ফিরোজ খান চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন। যদিও পরে ফিরোজ খানকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

চিন্ময় দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। তার বাবার করা হত্যা মামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হয়।

 

এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, আদালতের কার্যক্রমে বাধা, বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়। এই ছয় মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাঁচ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

 

এর আগে গত ৩ জুন চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খারিজ হয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে পুনরায় আবেদন করা হয়েছিল।

 

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, যানবাহন ভাঙচুরসহ পাঁচ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, “মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না। পরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে এসব মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ।”

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় ১ জুলাই পুলিশ যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, তাতে বলা হয়—চিন্ময় দাসের উসকানি ও নির্দেশেই সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

 

গত ৫ মে আদালতের আদেশে চিন্ময় দাসকে সাইফুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এ হত্যা মামলায় চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

 

এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা ফিরোজ খান চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন। যদিও পরে ফিরোজ খানকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

চিন্ময় দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। তার বাবার করা হত্যা মামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হয়।

 

এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, আদালতের কার্যক্রমে বাধা, বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়। এই ছয় মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।