পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ধোঁয়াশা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
- / 72
একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না—এ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় কেউই বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় দায়িত্বশীলদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে সরকারের ভাবনা কী—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “দেখছি, কী করা যায়।” আর ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা বাংলাদেশ ব্যাংককে জিজ্ঞেস করুন।” সাংবাদিকরা পাল্টা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা যৌথভাবে দেখছি। একেবারে উপেক্ষা করছি না।” তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান।
এর আগে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করা হবে—এমন গুঞ্জনে শেয়ারবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১২ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি এবং একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কিন্তু ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, পাঁচ ব্যাংকের ইক্যুইটি মূল্য শূন্যের নিচে, ফলে শেয়ারগুলোর প্রকৃত মূল্য শূন্য ধরা হবে এবং কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।
এই বক্তব্যের পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংক আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিতে পারে।
পরবর্তীতে ৯ নভেম্বর সচিবালয়ে বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গভর্নরের বক্তব্য চূড়ান্ত নয় এবং শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।
সব মিলিয়ে পাঁচ ব্যাংকের সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি, ফলে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ রয়ে গেছে আগের মতোই।































