ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মরজালের মা-শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ঘিরে চরম অব্যবস্থাপনা

পাঁচ কোটি টাকায় ভবন, দুই বছরেও সেবা নেই

শফিকুল ইসলাম, রায়পুরা (নরসিংদী)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 64

মরজালের মা-শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ঘিরে চরম অব্যবস্থাপনা। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। আধুনিক অবকাঠামো থাকলেও নেই চিকিৎসা সেবা, নেই প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম। ফলে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার হাজারো নারী ও শিশু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরোনো মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে ২০২৪ সালে নতুন এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসীর আশা ছিল, নতুন ভবনের মাধ্যমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রটি এখন পরিণত হয়েছে অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার প্রতীক হিসেবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে নেই কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়ার বদলির পর কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে সেবা নিতে আগ্রহ হারিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কিছু কর্মচারী নতুন ভবনটি কার্যত দখল করে রেখেছেন। তবে সেখানে কোনো নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালু হয়নি।

কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা ডলি রাণী বিশ্বাস স্বীকার করে বলেন, “কেউ সেবা নিতে আসে না, কারণ ওষুধ নেই। আমাদের কোনো কাজকাম নেই। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অবসর সময়েই কাটে।”

নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনও জানান, “জনবল না থাকায় এখনও কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়নি। আমরাও বসে সময় পার করছি।”

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিনের এক মাসের বেশি সময় ধরে উপস্থিতি রেজিস্টারে স্বাক্ষর নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিকুনা আক্তার বলেন, “রমিজ উদ্দিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা মেডিকেল অফিসার বলতে পারবেন।”

অন্যদিকে উপজেলা মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এইফসি) আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, “রমিজ উদ্দিন আমার আওতাধীন নন, তিনি পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের অধীনে। তবে জনবল সংকটের কারণে কেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

দুই কর্মকর্তার বক্তব্যেই স্পষ্ট- দায়িত্ব নিয়ে কেউই স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছেন না।

স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “পাঁচ কোটি টাকার ভবন যদি শুধু তালাবদ্ধ পড়ে থাকে, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।”

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মরজালের মা-শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ঘিরে চরম অব্যবস্থাপনা

পাঁচ কোটি টাকায় ভবন, দুই বছরেও সেবা নেই

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। আধুনিক অবকাঠামো থাকলেও নেই চিকিৎসা সেবা, নেই প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম। ফলে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার হাজারো নারী ও শিশু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরোনো মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে ২০২৪ সালে নতুন এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসীর আশা ছিল, নতুন ভবনের মাধ্যমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রটি এখন পরিণত হয়েছে অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার প্রতীক হিসেবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে নেই কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়ার বদলির পর কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে সেবা নিতে আগ্রহ হারিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কিছু কর্মচারী নতুন ভবনটি কার্যত দখল করে রেখেছেন। তবে সেখানে কোনো নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালু হয়নি।

কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা ডলি রাণী বিশ্বাস স্বীকার করে বলেন, “কেউ সেবা নিতে আসে না, কারণ ওষুধ নেই। আমাদের কোনো কাজকাম নেই। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অবসর সময়েই কাটে।”

নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনও জানান, “জনবল না থাকায় এখনও কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়নি। আমরাও বসে সময় পার করছি।”

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিনের এক মাসের বেশি সময় ধরে উপস্থিতি রেজিস্টারে স্বাক্ষর নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিকুনা আক্তার বলেন, “রমিজ উদ্দিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা মেডিকেল অফিসার বলতে পারবেন।”

অন্যদিকে উপজেলা মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এইফসি) আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, “রমিজ উদ্দিন আমার আওতাধীন নন, তিনি পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের অধীনে। তবে জনবল সংকটের কারণে কেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

দুই কর্মকর্তার বক্তব্যেই স্পষ্ট- দায়িত্ব নিয়ে কেউই স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছেন না।

স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “পাঁচ কোটি টাকার ভবন যদি শুধু তালাবদ্ধ পড়ে থাকে, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।”