ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গণছুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 106

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। (ফাইল ফটো)

বিদ্যুৎ উপদেষ্টার আশ্বাসের পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের গণছুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন শুক্রবার এক সংবাদবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

বার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে গ্রাম ও শহরের বিদ্যুৎ বৈষম্য দূরীকরণ এবং মানসম্মত, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের প্রাথমিক সময় বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হলেও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অসহযোগিতার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন; তাদের বিরুদ্ধে মামলা, চাকরিচ্যুতি, বরখাস্ত ও সংযুক্তি সহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ২১ মে থেকে শহিদ মিনারে ১৬ দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির পর বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত আশ্বাসে ৫ জুন আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এরপর ১৭ জুন বিদ্যুৎ বিভাগ দুটি কমিটি গঠন করলেও সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দমন-পীড়নের মাধ্যমে সমস্যা সৃষ্টি করে।

 

এর ফলে ১৭২ জনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, ২০ জনকে দীর্ঘদিন জেল খাটানো, ৪০ জনকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত, ৮৭ জনকে বরখাস্ত ও সংযুক্ত, এবং সাড়ে ৬ হাজার জনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ জন সহকর্মীকে চাকরিচ্যুত এবং ২৮ জনকে স্ট্যান্ডরিলিজপূর্বক বরখাস্ত করা হয়।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনের প্রায় দুই বছরের প্রক্রিয়ায় কখনোই বিদ্যুৎ সরবরাহ বা গ্রাহক সেবা বন্ধ রাখা হয়নি। চলমান গণছুটি কর্মসূচিতে ৮০টি সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে উপকেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয়েছিল।

 

বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, আরইবি কর্তৃক বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বারবার ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দেশবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উপদেষ্টার আহ্বানে সমিতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস পায়।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, বিদ্যুৎ উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে আশ্বস্ত করা হওয়ায় এবং দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় তারা গণছুটি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের কর্মস্থলে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গণছুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিদ্যুৎ উপদেষ্টার আশ্বাসের পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের গণছুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন শুক্রবার এক সংবাদবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

বার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে গ্রাম ও শহরের বিদ্যুৎ বৈষম্য দূরীকরণ এবং মানসম্মত, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের প্রাথমিক সময় বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হলেও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অসহযোগিতার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন; তাদের বিরুদ্ধে মামলা, চাকরিচ্যুতি, বরখাস্ত ও সংযুক্তি সহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ২১ মে থেকে শহিদ মিনারে ১৬ দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির পর বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত আশ্বাসে ৫ জুন আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এরপর ১৭ জুন বিদ্যুৎ বিভাগ দুটি কমিটি গঠন করলেও সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দমন-পীড়নের মাধ্যমে সমস্যা সৃষ্টি করে।

 

এর ফলে ১৭২ জনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, ২০ জনকে দীর্ঘদিন জেল খাটানো, ৪০ জনকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত, ৮৭ জনকে বরখাস্ত ও সংযুক্ত, এবং সাড়ে ৬ হাজার জনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ জন সহকর্মীকে চাকরিচ্যুত এবং ২৮ জনকে স্ট্যান্ডরিলিজপূর্বক বরখাস্ত করা হয়।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনের প্রায় দুই বছরের প্রক্রিয়ায় কখনোই বিদ্যুৎ সরবরাহ বা গ্রাহক সেবা বন্ধ রাখা হয়নি। চলমান গণছুটি কর্মসূচিতে ৮০টি সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে উপকেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয়েছিল।

 

বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, আরইবি কর্তৃক বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বারবার ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দেশবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উপদেষ্টার আহ্বানে সমিতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস পায়।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, বিদ্যুৎ উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে আশ্বস্ত করা হওয়ায় এবং দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় তারা গণছুটি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের কর্মস্থলে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।