ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পলাশে যুবলীগ নেতার ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক

সিনিয়র প্রতিবেদক, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 241

পলাশে যুবলীগ নেতার ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর প্রায় সাত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ক্রোক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে দুদকের সম্মিলিত জেলা কার্যালয় গাজীপুরের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচর এলাকায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পদ ক্রোক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দেলোয়ার হোসেন দেলু পলাশের কাজিরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

দুদক জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দেলুর বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। তদন্তে তার ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস না পাওয়ায় আদালতে তা ক্রোক করার আবেদন জানায় দুদক। পরে নরসিংদীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর সম্পদ ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন।

আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার ক্রোক অভিযান পরিচালিত হয় এবং সম্পদগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রোককৃত সম্পদের বিবরণ:

কাজিরচর গ্রামে ২৭ শতাংশ জমিতে নির্মিত ২,৩০৪ বর্গফুটের তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি—মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৪ টাকা।

একই গ্রামে ৬ শতাংশ জমিতে নির্মিত ৩,৬৫০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন—মূল্য ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার ২৫৭ টাকা।
মোট ক্রোককৃত সম্পদের মূল্য ৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেলোয়ার প্রথমে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উত্থান ঘটান। এরপর তিনি শীতলক্ষা ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি একটি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীও গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ১৭ বছরে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেলু এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুইটি ভবন ক্রোক করা হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পদ যাতে বেহাত বা বিক্রি না হয়, সেজন্য প্রশাসন তদারকি করবে। ভবনের ভাড়াটিয়াদেরও দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পলাশে যুবলীগ নেতার ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর প্রায় সাত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ক্রোক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে দুদকের সম্মিলিত জেলা কার্যালয় গাজীপুরের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচর এলাকায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পদ ক্রোক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দেলোয়ার হোসেন দেলু পলাশের কাজিরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

দুদক জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দেলুর বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। তদন্তে তার ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস না পাওয়ায় আদালতে তা ক্রোক করার আবেদন জানায় দুদক। পরে নরসিংদীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর সম্পদ ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন।

আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার ক্রোক অভিযান পরিচালিত হয় এবং সম্পদগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রোককৃত সম্পদের বিবরণ:

কাজিরচর গ্রামে ২৭ শতাংশ জমিতে নির্মিত ২,৩০৪ বর্গফুটের তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি—মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৪ টাকা।

একই গ্রামে ৬ শতাংশ জমিতে নির্মিত ৩,৬৫০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন—মূল্য ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার ২৫৭ টাকা।
মোট ক্রোককৃত সম্পদের মূল্য ৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেলোয়ার প্রথমে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উত্থান ঘটান। এরপর তিনি শীতলক্ষা ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি একটি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীও গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ১৭ বছরে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেলু এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুইটি ভবন ক্রোক করা হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পদ যাতে বেহাত বা বিক্রি না হয়, সেজন্য প্রশাসন তদারকি করবে। ভবনের ভাড়াটিয়াদেরও দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”