পদ্মার চরে হঠাৎ দেড় হাজার পুলিশের বিশেষ অভিযান
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 105
রাজশাহী, পাবনা, নাটোর ও কুষ্টিয়ার পদ্মার চরে রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয়েছে পুলিশের এক বিশেষ অভিযান। চার জেলার যৌথ এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জের দেড় হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য।
রাজশাহী রেঞ্জের অধীনে রাজশাহী, পাবনা ও নাটোরে এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’, যেখানে অংশ নেন প্রায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য। অন্যদিকে খুলনা রেঞ্জের অধীন কুষ্টিয়ার পদ্মা চরে অংশ নেন আরও ৩০০ পুলিশ সদস্য।
সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মার চরে ‘কাকন বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এই বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালানো, চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা এবং ফসল ও বালু লুটের মতো অপরাধে জড়িত।
গত ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চর এলাকায় ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এই বাহিনীর গুলিতে তিনজন কৃষক নিহত হন। পরে বাহিনীর প্রধান হাসিনুজ্জামান কাকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ইতিমধ্যে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ায় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ভোর থেকেই অভিযান শুরু হয়। রাজশাহী, পাবনা ও নাটোরের পদ্মা চরাঞ্চলে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে ৫টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ‘কাকন বাহিনী’র ২১ সদস্যকে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নদীপথ ও স্থলপথ উভয় দিক থেকেই অভিযান চালানো হয়। লালপুরের সীমান্তবর্তী চার দিয়াড় বাহাদুরপুর, চর জাজিরা ও চর লালপুর এলাকায় ১৪টি নৌকায় ১০টি দলে ভাগ হয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, জব্দকৃত মালামালের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
চর দিয়াড় বাহাদুরপুরের স্থানীয় মৎস্যজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, “পুলিশ যাদের ধরে নিয়ে গেছে, তারা প্রায় সবাই কাকন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত।”
খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ জয়নুদ্দীনের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর চর এলাকায় সকাল ৫টা থেকে অভিযান শুরু হয়। এতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, “পদ্মার চরে লুকিয়ে থাকা কাকন বাহিনীর সদস্য ও অন্যান্য সন্ত্রাসীদের ধরতেই এ অভিযান চলছে। ড্রোনের মাধ্যমে কাশবন ও জঙ্গলে নজরদারি করা হচ্ছে।”
অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো চরাঞ্চলে কড়া নিরাপত্তা বলয় জারি থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
































