ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 75

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। নিউইয়র্কের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এখানেই কয়েক দশক ধরে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। আধুনিক জীববিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ডিএনএ অণুর গঠন উদ্ভাবনের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। ওয়াটসনের প্রয়াণে বিজ্ঞানমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর বিবিসি।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞানচর্চা, লেখালেখি ও গবেষণায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই মানুষ, যিনি ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স কাঠামো (double helix structure) আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষের জিনগত তথ্যের প্রতিলিপি ও সংরক্ষণের রহস্য উন্মোচন করেন।

জেমস ওয়াটসন ও তার স্ত্রী ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন জীবনের মৌলিক নকশা বা ‘লাইফ ব্লুপ্রিন্ট’ ঠিক কীভাবে কাজ করে। তাদের যৌথ আবিষ্কারই দেখিয়েছিল যে জীবিত প্রাণীর জিনগত তথ্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য ১৯৬২ সালে ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিন্স চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

জীবনের শেষভাগে ওয়াটসন কিছু বিতর্কেরও জন্ম দেন। তিনি একসময় জাতি ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা বৈজ্ঞানিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই ঘটনার পর অনেক প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বৈজ্ঞানিক মহলে তিনি একপ্রকার একঘরে হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেও সেই বিতর্ক তার জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

২০১৪ সালে ওয়াটসন এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নেন- তিনি নিজের নোবেল পদকের সোনার অংশটি বিক্রি করেন ৪৮ লাখ ডলারে। পরে তিনি বলেন, জাতিগত মন্তব্যের পর বৈজ্ঞানিক সমাজ তাকে বয়কট করায়, তিনি মনে করেছিলেন জীবনের বাকি সময় স্বাভাবিকভাবে চলার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই ঘটনা সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে।

যদিও বিতর্ক তার উত্তরাধিকারের একটি অংশ হয়ে রয়ে গেছে, তবুও বিজ্ঞানে তার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। ডিএনএ-এর গঠন আবিষ্কার না হলে আধুনিক জেনেটিক্স, জিন থেরাপি, ফরেনসিক ডিএনএ বিশ্লেষণ কিংবা মানবজিন প্রকল্প (Human Genome Project) সবকিছুই বিলম্বিত বা অসম্পূর্ণ রয়ে যেত। ওয়াটসনের আবিষ্কার জীববিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন আর নেই

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। নিউইয়র্কের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এখানেই কয়েক দশক ধরে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। আধুনিক জীববিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ডিএনএ অণুর গঠন উদ্ভাবনের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। ওয়াটসনের প্রয়াণে বিজ্ঞানমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর বিবিসি।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞানচর্চা, লেখালেখি ও গবেষণায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই মানুষ, যিনি ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স কাঠামো (double helix structure) আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষের জিনগত তথ্যের প্রতিলিপি ও সংরক্ষণের রহস্য উন্মোচন করেন।

জেমস ওয়াটসন ও তার স্ত্রী ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন জীবনের মৌলিক নকশা বা ‘লাইফ ব্লুপ্রিন্ট’ ঠিক কীভাবে কাজ করে। তাদের যৌথ আবিষ্কারই দেখিয়েছিল যে জীবিত প্রাণীর জিনগত তথ্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য ১৯৬২ সালে ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিন্স চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

জীবনের শেষভাগে ওয়াটসন কিছু বিতর্কেরও জন্ম দেন। তিনি একসময় জাতি ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা বৈজ্ঞানিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই ঘটনার পর অনেক প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বৈজ্ঞানিক মহলে তিনি একপ্রকার একঘরে হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেও সেই বিতর্ক তার জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

২০১৪ সালে ওয়াটসন এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নেন- তিনি নিজের নোবেল পদকের সোনার অংশটি বিক্রি করেন ৪৮ লাখ ডলারে। পরে তিনি বলেন, জাতিগত মন্তব্যের পর বৈজ্ঞানিক সমাজ তাকে বয়কট করায়, তিনি মনে করেছিলেন জীবনের বাকি সময় স্বাভাবিকভাবে চলার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই ঘটনা সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে।

যদিও বিতর্ক তার উত্তরাধিকারের একটি অংশ হয়ে রয়ে গেছে, তবুও বিজ্ঞানে তার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। ডিএনএ-এর গঠন আবিষ্কার না হলে আধুনিক জেনেটিক্স, জিন থেরাপি, ফরেনসিক ডিএনএ বিশ্লেষণ কিংবা মানবজিন প্রকল্প (Human Genome Project) সবকিছুই বিলম্বিত বা অসম্পূর্ণ রয়ে যেত। ওয়াটসনের আবিষ্কার জীববিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।