খোঁজ নিচ্ছেন তারেক রহমান
নিহতদের পরিবারের পাশে বিএনপি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
- / 157
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনার পর থেকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন। দুর্ঘটনার দিন থেকেই তিনি লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আহতদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই তারেক রহমান একাধিক পূর্বঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করেন। উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি, আহতদের অবস্থা এবং হাসপাতালসমূহে চিকিৎসাসেবার খোঁজ রাখেন। এখন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমবেদনা জানানো শুরু করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা, তারেক রহমানের নির্দেশে।
জানা গেছে, তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে উত্তরার দিয়াবাড়ির তারারটেকের এক পারিবারিক কবরস্থানে যান, যেখানে একই পরিবারের তিন শিক্ষার্থী—আরিয়ান, হুমায়রা ও বাপ্পি শায়িত রয়েছেন। তিনি সেখানে কবর জিয়ারত করেন ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ছাড়া একইস্থানে শহীদ জুনায়েদ ও শারিয়ারের কবরেও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, নিহতদের পরিবারের খোঁজ নিতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার শহীদ এবি শামীমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে যাবেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। টঙ্গীর তুরাগ এলাকায় শহীদ সারিয়া আকতারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। একইদিনে নীলফামারীতে শহীদ শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর কবর জিয়ারত করবেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী আফরোজা আব্বাস। আগামী রোববার মাহেরীন চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন মির্জা আব্বাস।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তারেক রহমানের নির্দেশে নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দুর্ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আহতদের চিকিৎসায় যেন কোনো রক্তের সংকট না হয়, সেজন্য নেতাকর্মীদের রক্তদানসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান দুর্ঘটনার দিন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে একটি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন। কিন্তু বিমান বিধ্বস্তের খবর পেয়ে তিনি সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করে পরিস্থিতি সামাল দিতে দলীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেন।
তারেক রহমানের নির্দেশে বাতিল করা কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের পূর্বনির্ধারিত র্যালি এবং মহিলা দলের ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীদের অবদান’ শীর্ষক সভা। পাশাপাশি, শোক ও বিজয়ের মাস উপলক্ষে ঘোষিত আলোচনা সভার দলীয় সংগীত অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়। এসব কর্মসূচিতে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
তারেক রহমান বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামকে একটি উদ্ধারকারী টিম ও অ্যাম্বুলেন্সের বহরসহ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলকে মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য রক্তদানের উদ্যোগ নিতে বলেন। ইতোমধ্যে এসব সংগঠন রক্তদান কর্মসূচি ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।
সর্বশেষ, গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নিহত শিক্ষার্থী ও পাইলটের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরবর্তী চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয় করতে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীরকে দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি আহতদের চিকিৎসা, রক্ত সরবরাহ এবং পরিবারগুলোর সহায়তার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন।































