নির্বাচনের আগে সরকারের কাছে এনসিপির তিন দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 121
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের কাছ থেকে তারা তিনটি বিষয় চায়: সংস্কার ও বিচার বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি, মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠন।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলা মোটরের রূপায়ন টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্রে অনেক অগ্রগতি থাকলেও তা এখনো পরিপূর্ণ নয়। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আন্দোলনের কথা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার হত্যাকাণ্ড ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ উপেক্ষিত হয়েছে।”
আখতার হোসেন দাবি করেন, “ঘোষণাপত্রে শহীদের সংখ্যা নিয়ে ‘প্রায় এক হাজার’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী তা ১,৪০০ জন। সরকার এই সংখ্যার প্রকৃত হিসাব নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘোষণাপত্রের ২৫ ও ২৭ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এই ঘোষণাপত্র যুক্ত হবে। অথচ আমরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি। এটা আমাদের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার শামিল।”
এনসিপি চায়, গণপরিষদ নির্বাচন করে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন হোক, যেখানে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা ও জুলাই সনদের মূল চেতনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আখতার হোসেনের মতে, “ঐকমত্য কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যেসব সংস্কারে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কাল থেকেই শুরু করতে হবে। এর ভিত্তিতেই আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ঘোষণার আগেই সরকারকে অবশ্যই কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণহত্যাকারীদের বিচার এবং রাষ্ট্র কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তনের জন্য সংস্কারের যাত্রা শুরু হয়েছে; এ যাত্রাকে অর্থবহ করতে নির্বাচন পূর্বেই সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি।”
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন সরকারের কাছে প্রতিশ্রুতি দাবি করেন, যাতে:
১. নির্বাচন পূর্বেই সংস্কার ও বিচার বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়।
২. মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়।
৩. একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়, যাতে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে সমান সুযোগে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্ভূত এই নতুন বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই আগামী দিনের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
































