ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 51

নির্বাচনী নিরাপত্তায় বডি ক্যামেরা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত হবে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা, আর প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বসানো হবে সিসিটিভি। এসব তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৮ হাজার ৭৮০টি এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৬ হাজার ৫৪৮টি। এসব কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন, পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি, আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি, বিজিবি ৩৭ হাজারের বেশি, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র‍্যাব ৭ হাজার ৭০০ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মোট মোতায়েন সদস্য সংখ্যা হবে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে, যা ২০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে। এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সমন্বিতভাবে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব এবং আনসার ও ভিডিপি এসব ড্রোন পরিচালনা করবে। নিরাপত্তায় ডগ স্কোয়াডও ব্যবহার করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ ব্যবহার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এনটিএমসি প্রস্তুত করা এই অ্যাপের সঙ্গে বিভিন্ন বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গম এলাকায় ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। দুষ্কৃতকারী ও নির্বাচন বাধাগ্রস্তকারী যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোটের আগে চার দিন দেশজুড়ে নিবিড় টহল চালানো হবে, বিশেষ করে চর ও দুর্গম এলাকায়।

নির্বাচনে দুই ধাপে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করে পুলিশ, আনসার, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র‍্যাবের সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নির্বাচনে ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত হবে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা, আর প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বসানো হবে সিসিটিভি। এসব তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৮ হাজার ৭৮০টি এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৬ হাজার ৫৪৮টি। এসব কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন, পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি, আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি, বিজিবি ৩৭ হাজারের বেশি, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র‍্যাব ৭ হাজার ৭০০ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মোট মোতায়েন সদস্য সংখ্যা হবে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে, যা ২০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে। এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সমন্বিতভাবে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব এবং আনসার ও ভিডিপি এসব ড্রোন পরিচালনা করবে। নিরাপত্তায় ডগ স্কোয়াডও ব্যবহার করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ ব্যবহার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এনটিএমসি প্রস্তুত করা এই অ্যাপের সঙ্গে বিভিন্ন বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গম এলাকায় ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। দুষ্কৃতকারী ও নির্বাচন বাধাগ্রস্তকারী যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোটের আগে চার দিন দেশজুড়ে নিবিড় টহল চালানো হবে, বিশেষ করে চর ও দুর্গম এলাকায়।

নির্বাচনে দুই ধাপে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করে পুলিশ, আনসার, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র‍্যাবের সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।