ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সুরক্ষায় অঙ্গীকারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 115

বাপা'র সাধারণ সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তারা বলেছেন, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি।

 

রবিবার রাজধানীর ডাব্লিউভিএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)- এর সাধারণ সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

 

সভায় বক্তব্য দেন বাপার সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)- এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম, বেন-এর বৈশ্বিক সমন্বয়কারী ড. মো. খালেকুজ্জামান, বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান ও অধ্যাপক এম. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এবং যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদারসহ অন্যান্যরা।

 

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সংকট মোকাবেলায় ১১ দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ এলাকা ঘোষণা, উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতিটি বাড়িকে শেল্টার হোমে রূপান্তর, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ, নদ-নদী ও জলাশয় দখল ও দূষণমুক্ত রাখা, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, কৃষি উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন।

 

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতায় বাংলাদেশের দায় মাত্র শূন্য দশমিক চার শতাংশ হলেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গত ২০ বছরে উপকূলে দুর্যোগের সংখ্যা দশগুণ বেড়েছে। এতে মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্য, পানি ও বাসস্থানের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

 

বক্তারা জানান, উপকূলজুড়ে তীব্র সুপেয় পানির সংকট বিরাজ করছে। অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও লবণাক্ততার বিস্তারে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। সেখানে ৭৩ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত। টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতিবছর স্বাভাবিক জোয়ারেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদ-নদী ও জলাশয় দখল ও দূষণের ফলে পরিবেশগত বিপর্যয় তীব্রতর হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় জনসংখ্যার ওপর।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সুরক্ষায় অঙ্গীকারের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তারা বলেছেন, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি।

 

রবিবার রাজধানীর ডাব্লিউভিএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)- এর সাধারণ সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

 

সভায় বক্তব্য দেন বাপার সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)- এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম, বেন-এর বৈশ্বিক সমন্বয়কারী ড. মো. খালেকুজ্জামান, বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান ও অধ্যাপক এম. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এবং যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদারসহ অন্যান্যরা।

 

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সংকট মোকাবেলায় ১১ দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ এলাকা ঘোষণা, উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতিটি বাড়িকে শেল্টার হোমে রূপান্তর, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ, নদ-নদী ও জলাশয় দখল ও দূষণমুক্ত রাখা, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, কৃষি উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন।

 

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতায় বাংলাদেশের দায় মাত্র শূন্য দশমিক চার শতাংশ হলেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গত ২০ বছরে উপকূলে দুর্যোগের সংখ্যা দশগুণ বেড়েছে। এতে মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্য, পানি ও বাসস্থানের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

 

বক্তারা জানান, উপকূলজুড়ে তীব্র সুপেয় পানির সংকট বিরাজ করছে। অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও লবণাক্ততার বিস্তারে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। সেখানে ৭৩ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত। টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতিবছর স্বাভাবিক জোয়ারেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদ-নদী ও জলাশয় দখল ও দূষণের ফলে পরিবেশগত বিপর্যয় তীব্রতর হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় জনসংখ্যার ওপর।