ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভারতকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 122

ভারতকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে—এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর কোনো উপদেশের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে দেওয়া নসিয়ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ভারতের কিছু বক্তব্য এসেছে, যেখানে বাংলাদেশকে নসিয়ত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যে নসিয়ত দেওয়া হয়েছে, তার প্রয়োজন আমাদের নেই। বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে—তার জন্য আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম দিন থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য ও উচ্চমানের নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করে আসছে—যে পরিবেশ গত ১৫ বছরে দেখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছে। তখন ভারতের সঙ্গে সরকারের অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল, কিন্তু সে সময় ভারত একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। এখন যখন আমরা একটি ভালো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি, তখন নসিয়ত দেওয়া হচ্ছে—যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের উপদেশের প্রয়োজন নেই। আমরা জানি কী করতে হবে। মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে।”

গত রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এরপর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন ও স্থিতিশীলতা বিষয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

দুদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা তাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছি। আমাদের বক্তব্য থেকে কিছু তারা গ্রহণ করেনি। একইভাবে তারা আমাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছে। এটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়—এ ধরনের ঘটনা সাধারণত ঘটে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আগে শেখ হাসিনা ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিতেন। এখন নিয়মিত মূলধারার গণমাধ্যমেও তার বক্তব্য আসছে এবং সেখানে উসকানিমূলক কথা রয়েছে। একজন আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি পাশের দেশে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার বক্তব্য বন্ধ বা তাকে ফেরত চাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভারতকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে—এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর কোনো উপদেশের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে দেওয়া নসিয়ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ভারতের কিছু বক্তব্য এসেছে, যেখানে বাংলাদেশকে নসিয়ত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যে নসিয়ত দেওয়া হয়েছে, তার প্রয়োজন আমাদের নেই। বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে—তার জন্য আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম দিন থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য ও উচ্চমানের নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করে আসছে—যে পরিবেশ গত ১৫ বছরে দেখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছে। তখন ভারতের সঙ্গে সরকারের অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল, কিন্তু সে সময় ভারত একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। এখন যখন আমরা একটি ভালো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি, তখন নসিয়ত দেওয়া হচ্ছে—যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের উপদেশের প্রয়োজন নেই। আমরা জানি কী করতে হবে। মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে।”

গত রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এরপর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন ও স্থিতিশীলতা বিষয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

দুদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা তাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছি। আমাদের বক্তব্য থেকে কিছু তারা গ্রহণ করেনি। একইভাবে তারা আমাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছে। এটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়—এ ধরনের ঘটনা সাধারণত ঘটে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আগে শেখ হাসিনা ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিতেন। এখন নিয়মিত মূলধারার গণমাধ্যমেও তার বক্তব্য আসছে এবং সেখানে উসকানিমূলক কথা রয়েছে। একজন আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি পাশের দেশে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার বক্তব্য বন্ধ বা তাকে ফেরত চাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”