দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সিদ্ধান্ত নেবে ইসি
নিবন্ধন ফিরে পেল জামায়াত
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
- / 3867
রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।
রবিবার (১ জুন) দলটির পক্ষে করা আপিল গ্রহণ করে রায় দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।
এর ফলে জামায়াতকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত বৈধ বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আইনজীবীরা।
এদিকে, জামায়াতের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ।
এর আগে, গত ১৪ মে মামলার আপিল শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
ওইদিন আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।
২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত না থাকায় আপিল বিভাগ মামলাটি খারিজ করে দেন।
পরে আপিলটি পুনরুজ্জীবনের (রিস্টোর) জন্য আবেদন করা হয়। ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর আদালত বিলম্ব মার্জনা করে আপিলটি পুনরুজ্জীবন করেন।
এরপর ৩ ডিসেম্বর থেকে আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। চতুর্থ দিনের মতো শুনানি শেষে মামলার রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়।
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামকে সাময়িক নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। পরের বছর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির তৎকালীন মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।
ওই রিটে জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নির্বাচন কমিশনসহ চারজনকে বিবাদী করা হয়। তারা জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের আবেদন জানান।
রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক (পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করেন।
রুল জারির পর জামায়াত ২০০৯ সালের ডিসেম্বর, ২০১০ সালের জুলাই ও নভেম্বর এবং ২০১২ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে মোট পাঁচ দফায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এসব সংশোধনীতে দলের নাম ‘জামায়াতে ইসলাম, বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ রাখা হয়।
২০১৩ সালের ১২ জুন রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। এরপর একই বছরের ১ আগস্ট বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (পরবর্তীতে আপিল বিভাগের বিচারপতি, পরে পদত্যাগ করেন) ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের (বর্তমানে পদত্যাগ করেছেন) সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর (লার্জার) বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন।
সেই রায়ে বলা হয়, জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া ছিল আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। একইসঙ্গে জামায়াতকে আপিল করার অনুমতি দেন আদালত।
তবে ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে জামায়াতের করা আবেদন একই বছরের ৫ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ২ নভেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে জামায়াত আপিল করে।
২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেয়। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে টানা চতুর্থ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে।
তবে ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ওই আন্দোলনে গণহত্যার অভিযোগ এনে ছাত্র-জনতা সরকার পতনের দাবি তোলে। এরই মধ্যে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সরকার অঙ্গসংগঠনসহ জামায়াতে ইসলামীকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াত নিষিদ্ধের আদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেয়। ২৮ আগস্ট সরকার আগের নিষিদ্ধাদেশ বাতিল করে। এরপর জামায়াত আপিল বিভাগে নিবন্ধন মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন করে।
































