নিউমুরিং টার্মিনাল রায় নিয়ে উত্তেজনা, শ্রমিকদের শনি-রবি শাটডাউন ঘোষণা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 11
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের সরকারি উদ্যোগ ও হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।
প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীরা আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুই দিনের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তারা দাবি আদায় না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের কারশেড ও আশপাশে ‘বন্দর রক্ষা পরিষদ’সহ বিভিন্ন শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। অংশগ্রহণকারীরা এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনাকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।
শ্রমিক নেতারা বলেন, হাইকোর্টের রায়ের আড়ালে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সিবিএর সাবেক প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, “দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রধান সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি শুধু চাকরির প্রশ্ন নয়, জাতীয় স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিষয়। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও আমরা এই বন্দর রক্ষা করব।”
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার একই সময়ে সব প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। পণ্য ওঠানামা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও জাহাজ থেকে পণ্য খালাসসহ সব কার্যক্রম প্রভাবিত হবে।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি হলো বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যানকে অপসারণ, বন্দর বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা, এবং কোনো টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর না করা। চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, “আমরা আদালতের বিরুদ্ধে নই, সরকারের কূটকৌশলের বিরুদ্ধে যা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশিদের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করছে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র।”
বিক্ষোভের কারণে বন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারশেড, প্রশাসনিক ভবন ও প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






























