স্থায়ী বহিষ্কার সংগঠন থেকে
নাহিদের ভরসায় চাঁদাবাজিতে গ্রীণ ইউনিভার্সিটির অপু
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
- / 297
এনসিপির আহ্বাবায়ক নাহিদ ইসলামের ভরসায় রাজধানীর গুলশানে সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের কাছে সমন্বয়ক পরিচয়ে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন ‘গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এর আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জানে আলম অপু, আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদসহ ৬ জন। পরে ১০ লাখ টাকা গ্রহণের সময় তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যার পর গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে।
চাঁদাবাজির এই ঘটনায় মূল ভূমিকা পালনকারী জানে আলম অপু এবং রিয়াদ। দুজনই গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা। ঘটনার পরই তাদের সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানে আলম অপু ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গ্রিন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। একইভাবে রিয়াদকেও সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এক জরুরি নোটিশে জানায়, ‘কতিপয় ব্যক্তি “সমন্বয়ক” পরিচয়ে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। সেখানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু এবং সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের সরাসরি সম্পৃক্ততা উঠে আসে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা ৩.১ অনুযায়ী, শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে এবং সরাসরি চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়ার ভিত্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার ও সদস্য সচিব জাহিদ আহসানের নির্দেশনায় এ বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।’
সংগঠনটি একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে, চাঁদাবাজির ঘটনায় আরেকটি ছাত্রসংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ও তাদের ঢাকা মহানগর শাখার তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, ‘সাংগঠনিক নীতিমালা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদাবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন, যেন বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কেউ কোনো সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখে।
ঘটনার বিষয়ে গ্রিন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষও জানায়, তাদের আইন বিভাগের ছাত্র জানে আলম অপুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলেও তারা জানিয়েছে।


































