নারীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
- / 640
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ‘আপত্তিকর’ দাবি করে জেলা জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে, অনেকেই তার শাস্তির দাবিও তুলেছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে ভিডিওটি টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা নারী জেলা প্রশাসকের স্ত্রী হতে পারেন। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার স্ত্রী নন।
প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর প্রথমে এ বিষয়ে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ওই নারীর একটি ছবি দিয়ে লেখেন, “শরীয়তপুরের ডিসি মো. আশরাফ উদ্দিন। একজন জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তি। তিনি নিজেই খুশি মনে এই ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন। ছবির নারীকে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এখন বিয়ে না করে হুমকি দিচ্ছেন।”
জাওয়াদ আরও দাবি করেন, “উনার কোলে তোলার গল্পের খানিকটা কমেন্ট ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া আছে।” এরপর থেকেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ভিডিওটি আমরা দেখেছি। স্যারের স্ত্রীকে আমরা চিনি, ভিডিওতে থাকা নারী তিনি নন।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হবে।
জানা গেছে, মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর আগে তিনি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ও নিউরো-ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি একটি ভাড়া করা গাড়িতে শরীয়তপুর ত্যাগ করেন। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসলাম হোসাইন বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজ শেষে ডিসি স্যার বাসায় ফিরেছেন। তবে এখন তিনি শরীয়তপুরে নেই। তার ব্যাপারে আমার আর কোনো তথ্য জানা নেই।”
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, “আমরা শুক্রবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। একজন জেলা প্রশাসকের এমন কাণ্ড খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”


































