নাফ নদীতে আরাকান আর্মির বেপরোয়া তৎপরতা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / 273
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদী এখন জেলেদের জন্য এক ভয়ের জলপথে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ করছে। গত ২৩ দিনে সংগঠনটি অন্তত ৬৩ জন জেলে ও ১০টি ট্রলার ধরে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ট্রলার মালিক ও স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা হয়ে সাগরে মাছ ধরতে গেলে কিংবা ফেরার পথে আরাকান আর্মি স্পিডবোট দিয়ে ধাওয়া করে অস্ত্রের মুখে জেলেদের আটক করছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় ২৬ আগস্ট ২টি ট্রলারসহ ১১ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে তারা। এর আগে ২৪ আগস্ট ১৪ জন, ২৫ আগস্ট ৭ জনসহ একের পর এক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
টেকনাফ ট্রলার মালিক সমিতির হিসাবে, গত ৫ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের খোঁজ এখনো মেলেনি। ফলে উপকূলের জেলে পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে বিজিবির প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে টেকনাফ উপকূল থেকে ১৯টি ফিশিং বোট ও ১২২ জন জেলে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জন রোহিঙ্গা ও ২৯ জন বাংলাদেশি। সংস্থাটির দাবি, তাদের আটক না করলে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী অপহরণ করে নিয়ে যেত।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, প্রতিদিনই আরাকান আর্মি বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গত চারদিনেই ৪৪ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, আরাকান আর্মির হাতে বর্তমানে অন্তত ৫১ জন বাংলাদেশি জেলে আটক রয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশি জেলে অপহরণের শিকার না হয়।
































