ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাটোরে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 119

নাটোরে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

নাটোরের বাগাতিপাড়ার নূরপুর মালঞ্চি চকপাড়া এলাকায় সরকারি ভিপি জমি দখল করে ভূমিহীন পরিবারের যাতায়াতের পথ বন্ধের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পথ বন্ধ হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান শিখা বেগম, যিনি ওই এলাকার ইদ্রিস আলীর স্ত্রী।

শিখা বেগম বলেন, “আমরা ভূমিহীন মানুষ। সরকারের ভিপি জমির একাংশে বসবাস করি। এই পথ দিয়েই বাজার, স্কুল ও হাসপাতাল যাতায়াত করি। কিন্তু এখন জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম বেআইনিভাবে জমি দখল করে কাঁটাতার দিয়েছেন, ফলে আমরা সমস্যায় পড়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কামরুল ইসলাম শুধু সরকারি জমি দখলই করেননি, তিনি এলাকায় ‘ফিলোন সমবায় সমিতি’ নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালিয়ে উচ্চ সুদের বিনিময়ে মানুষদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। তার অবৈধ অর্থের জোরেই তিনি সরকারি জমি নিজের নামে দাবি করছেন।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, দাগ নং ১৬০২ ও ১৬০৩ নম্বর সরকারি ভিপি জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত। তবে প্রভাবশালী ওই নেতা অবৈধভাবে জমি ক্রয় দাবি করে সেখানে স্থায়ী প্রাচীর তুলতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না এবং অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিখা বেগম অভিযোগ করেছেন, “আমি গরিব মানুষ, সাহস করে মুখ খুলেছি। সে সরকারি জমি দখল করছে, আবার উল্টো জামায়াতের ক্ষমতা খাটিয়ে আমাদের নামে থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।” ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন, সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রি বা দখল হয়েছে কি না তা তদন্ত করা হোক এবং তাদের চলাচলের পথ অবিলম্বে খোলা হোক।

আইন অনুযায়ী, ভিপি জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং এর মালিকানা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। ‘শত্রু সম্পত্তি আইন ১৯৬৫’ ও পরবর্তী সংশোধনীর আওতায় এই ধরনের জমি বিক্রি, দখল বা দলিল করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে সার্ভেয়ার ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই জমির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

বাগাতিপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা একেএম আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সে যেই অন্যায় করুক না কেন, আমরা তার প্রতিবাদ করব।” তবে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কামরুল ইসলাম বর্তমানে দলের সক্রিয় সদস্য নন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নাটোরে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

নাটোরের বাগাতিপাড়ার নূরপুর মালঞ্চি চকপাড়া এলাকায় সরকারি ভিপি জমি দখল করে ভূমিহীন পরিবারের যাতায়াতের পথ বন্ধের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পথ বন্ধ হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান শিখা বেগম, যিনি ওই এলাকার ইদ্রিস আলীর স্ত্রী।

শিখা বেগম বলেন, “আমরা ভূমিহীন মানুষ। সরকারের ভিপি জমির একাংশে বসবাস করি। এই পথ দিয়েই বাজার, স্কুল ও হাসপাতাল যাতায়াত করি। কিন্তু এখন জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম বেআইনিভাবে জমি দখল করে কাঁটাতার দিয়েছেন, ফলে আমরা সমস্যায় পড়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কামরুল ইসলাম শুধু সরকারি জমি দখলই করেননি, তিনি এলাকায় ‘ফিলোন সমবায় সমিতি’ নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালিয়ে উচ্চ সুদের বিনিময়ে মানুষদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। তার অবৈধ অর্থের জোরেই তিনি সরকারি জমি নিজের নামে দাবি করছেন।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, দাগ নং ১৬০২ ও ১৬০৩ নম্বর সরকারি ভিপি জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত। তবে প্রভাবশালী ওই নেতা অবৈধভাবে জমি ক্রয় দাবি করে সেখানে স্থায়ী প্রাচীর তুলতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না এবং অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিখা বেগম অভিযোগ করেছেন, “আমি গরিব মানুষ, সাহস করে মুখ খুলেছি। সে সরকারি জমি দখল করছে, আবার উল্টো জামায়াতের ক্ষমতা খাটিয়ে আমাদের নামে থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।” ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন, সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রি বা দখল হয়েছে কি না তা তদন্ত করা হোক এবং তাদের চলাচলের পথ অবিলম্বে খোলা হোক।

আইন অনুযায়ী, ভিপি জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং এর মালিকানা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। ‘শত্রু সম্পত্তি আইন ১৯৬৫’ ও পরবর্তী সংশোধনীর আওতায় এই ধরনের জমি বিক্রি, দখল বা দলিল করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে সার্ভেয়ার ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই জমির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

বাগাতিপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা একেএম আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সে যেই অন্যায় করুক না কেন, আমরা তার প্রতিবাদ করব।” তবে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কামরুল ইসলাম বর্তমানে দলের সক্রিয় সদস্য নন।