ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

না ফেরার দেশে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 124

খালেদা জিয়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি মিডিয়া সেল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্টের মাত্রা বেড়ে গেলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন দলটির নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় তার জন্ম। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার। দেশভাগের পর তার পরিবার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করলেও তাদের আদি নিবাস ফেনী জেলায়। খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্বে থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি এক ব্যতিক্রমী রেকর্ডের অধিকারী। একাধিক জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে কখনো কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিবারই বিজয়ী হন।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনেরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

না ফেরার দেশে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি মিডিয়া সেল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্টের মাত্রা বেড়ে গেলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন দলটির নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় তার জন্ম। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার। দেশভাগের পর তার পরিবার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করলেও তাদের আদি নিবাস ফেনী জেলায়। খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্বে থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি এক ব্যতিক্রমী রেকর্ডের অধিকারী। একাধিক জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে কখনো কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিবারই বিজয়ী হন।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনেরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।