ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবায়ন হচ্ছে না বিমানবন্দরের ১৬ প্রতিষ্ঠানের ইজারার মেয়াদ

জুলহাস কবীর, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • / 269

বিমানবন্দর

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আরও দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে—১৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আজ (সোমবার) মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ইজারা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় আরও আধুনিকতা, জবাবদিহিতা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এইসব স্পর্শকাতর স্থানে নতুন নীতিমালার আওতায় নিয়ন্ত্রিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেসব প্রতিষ্ঠানের ইজারা নবায়ন হচ্ছে না সেগুলো হলো—এরোস ট্রেডিং, মেসার্স সজল এন্টারপ্রাইজ, মাহবুবা ট্রেডার্স, নাহার কনস্ট্রাকশন, এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড, এ ফাইভ রোডওয়ে লিমিটেড, ওয়ার্ল্ড ট্রাস্ট ট্যুরিস্ট কার সার্ভিসেস কোম্পানি, শিরিন এন্টারপ্রাইজ, হাওলাদার অ্যান্ড সন্স, অথৈ এন্টারপ্রাইজ, ওল্ফ করপোরেশন, আড়িয়াল ক্রিয়েটিভ স্পেস, ধানসিঁড়ি কমিউনিকেশন এবং ডিপার্টমেন্ট এস কনসালটিং।

এছাড়া, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী প্রান্তিক ভবনের দ্বিতীয় তলার বহির্গমন এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্যালকন এজেন্সি’ এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ বহির্গমন এলাকায় থাকা ‘ফ্যালকন এয়ারপোর্ট সার্ভিস টিম’-এর কার্যক্রমও একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদের সকলকে চূড়ান্তভাবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেবিচকের একজন কর্মকর্তা বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের ইজারার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের আর নবায়নের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এসব স্থাপনার ব্যবহার ভবিষ্যতে নতুন নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে একই ইজারায় কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও তাদের বিরুদ্ধে যাত্রীসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এসব বিবেচনায় এনে এবার বেবিচক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

এর আগে বেবিচক গতকাল, ২৯ জুন, ডাকযোগে ইজারাধারী সকল প্রতিষ্ঠানকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এরপর আজ ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নোটিশও জারি করে, যেখানে বলা হয়—ইজারার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব প্রতিষ্ঠানকে অপসারণ করতে হবে এবং নতুন করে ইজারা নবায়নের কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নবায়ন হচ্ছে না বিমানবন্দরের ১৬ প্রতিষ্ঠানের ইজারার মেয়াদ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আরও দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে—১৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আজ (সোমবার) মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ইজারা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় আরও আধুনিকতা, জবাবদিহিতা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এইসব স্পর্শকাতর স্থানে নতুন নীতিমালার আওতায় নিয়ন্ত্রিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেসব প্রতিষ্ঠানের ইজারা নবায়ন হচ্ছে না সেগুলো হলো—এরোস ট্রেডিং, মেসার্স সজল এন্টারপ্রাইজ, মাহবুবা ট্রেডার্স, নাহার কনস্ট্রাকশন, এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড, এ ফাইভ রোডওয়ে লিমিটেড, ওয়ার্ল্ড ট্রাস্ট ট্যুরিস্ট কার সার্ভিসেস কোম্পানি, শিরিন এন্টারপ্রাইজ, হাওলাদার অ্যান্ড সন্স, অথৈ এন্টারপ্রাইজ, ওল্ফ করপোরেশন, আড়িয়াল ক্রিয়েটিভ স্পেস, ধানসিঁড়ি কমিউনিকেশন এবং ডিপার্টমেন্ট এস কনসালটিং।

এছাড়া, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী প্রান্তিক ভবনের দ্বিতীয় তলার বহির্গমন এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্যালকন এজেন্সি’ এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ বহির্গমন এলাকায় থাকা ‘ফ্যালকন এয়ারপোর্ট সার্ভিস টিম’-এর কার্যক্রমও একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদের সকলকে চূড়ান্তভাবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেবিচকের একজন কর্মকর্তা বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের ইজারার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের আর নবায়নের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এসব স্থাপনার ব্যবহার ভবিষ্যতে নতুন নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে একই ইজারায় কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও তাদের বিরুদ্ধে যাত্রীসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এসব বিবেচনায় এনে এবার বেবিচক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

এর আগে বেবিচক গতকাল, ২৯ জুন, ডাকযোগে ইজারাধারী সকল প্রতিষ্ঠানকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এরপর আজ ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নোটিশও জারি করে, যেখানে বলা হয়—ইজারার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব প্রতিষ্ঠানকে অপসারণ করতে হবে এবং নতুন করে ইজারা নবায়নের কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।