নেপ’র গবেষণা
নন-প্রফেশনাল কাজে ক্লান্ত প্রাথমিক শিক্ষক, বছরে ব্যয় ১ হাজার ৭১০ কোটি
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 4
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার বাইরে অসংখ্য প্রশাসনিক ও অপেশাদার কাজে জড়িত, যা তাদের কর্মক্লান্তি বাড়াচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) নতুন গবেষণা বলছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৩ শতাংশ শিক্ষক ‘লেট-স্টেজ বার্নআউট’-এর ঝুঁকিতে রয়েছেন। বছরে এ কাজে সরকারের ব্যয় ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকারও বেশি।
‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশা-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক ৩৭ প্রকারের নন-প্রফেশনাল কাজে ব্যস্ত থাকেন।
জরিপ, মা সমাবেশ, বিদ্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ ও হোম ভিজিটসহ এই কাজে মাসিক গড়ে শিক্ষকপ্রতি প্রায় ২৪ কর্মঘণ্টা ব্যয় হয়।
অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর ৯০ শতাংশ শিক্ষক পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না। ৮৭ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকমতো বুঝতে পারছে না এবং পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্রম ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, একজন সহকারী শিক্ষক গড়ে মাসে ৪ হাজার ১১৬ টাকা সমপরিমাণ শ্রম অপেশাদার কাজে ব্যয় করেন। সারাদেশে নন-প্রফেশনাল কাজে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৩৪১ জন শিক্ষক ব্যয় করছেন বছরে মোট ১ হাজার ৭১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
প্রধান শিক্ষকেরা সহকারী শিক্ষকের তুলনায় বেশি সময় এ কাজে ব্যয় করেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯২.৬৯ শতাংশ ‘লেট-স্টেজ বার্নআউট’-এ রয়েছেন।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী বা ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করতে হবে। একক ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে সব প্রশাসনিক কাজ সমন্বয় করা এবং শিক্ষকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে একটি ‘Teaching Hour Protection Policy’ প্রণয়ন করা উচিৎ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, “গবেষণার তথ্য নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে, তবে মূল উদ্দেশ্য হলো সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে শিক্ষকদের শিক্ষার বাইরে ব্যবহার কমানো যায়।”
তিনি আরও বললেন, শিক্ষা খাতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে সমাধান করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।































