ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নথিতে আড়াল বিমানের ডিজিএম’র বিপুল সম্পদ

শরিয়ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 1306

ডিজিএম) মনিরুজ্জামান খান।

বাংলাদেশ বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক- ডিজিএম মনিরুজ্জামান খান। গোপালগঞ্জ বাড়ি, এই পরিচয় ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেছিলেন তিনি। তদবির বানিজ্য, চোরাচালান, ঠিকাদারি করে নিজের এবং বিমান ক্রু স্ত্রীর নামে গড়েছেন রাজধানীতে অঢেল সম্পদ। সরকার পরিবর্তনের পরেও এই কর্মকর্তার প্রভাব এতটুকুও কমেনি। আবার নিজেকে দাবি করেন ‘ বিমানের সৎ কর্মকতা’ হিসেবে। তাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ

তৃতীয় পর্ব।

ধানমন্ডিতে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট, উত্তরায় দুটি ছয়তলা বাড়ি, বসুন্ধরায় ১০ কাঠা জমি, পূর্বাচলে ৭.৫ কাঠা জমি আর ধানমন্ডির একটি শপিংমলে একটি দোকান। এসবই মাত্র দুই কোটি টাকা। শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এই অসাধ্য সাধন করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনিরুজ্জামান খান।

মনিরুজ্জামান খান ১৯৯৪ সালে কেবিন ক্রু হিসেবে যোগ দেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৮-০৯ সালের দিকে বিমানের ইতিহাস ভেঙে প্রশাসনিক পদে পদোন্নতি নেন মনিরুজ্জামান। একের পর এক পদোন্নতি নিয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে যান বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ডিজিএম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাঁকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগে বদলি করা হয়।

বদলির পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনিরুজ্জামানের তথ্য গোপনের প্রমাণ। চাকরী পাওয়ার মাত্র চার বছরের মাথায় ধানমন্ডি ৮-এ রোডে ২২ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনেন মনিরুজ্জামান। তবে দলিলে ২২ লাখ উল্লেখ করা হলেও এর দাম ছিলো এর কয়েকগুন বেশি।

মনিরুজ্জামানের দাবি, ২০১৭ সালে সেই ফ্ল্যাট বিক্রি করে ৯/এ-তে দুই কোটি টাকায় ২ হাজার ৭৫০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। ২০২২ সালে সেই ফ্ল্যাট তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে ধানমন্ডি ছয় নম্বরের ৩৫ নম্বর বাড়িতে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায় সাড়ে তিন হাজার স্কয়ারফিটের ফ্ল্যাট কেনেন মনিরুজ্জামান। তবে দলিলে উল্লেখ করেছেন মাত্র এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর আরকর নথিতে করেছেন আরো বড় লুকোচুরি। পুরো ফ্ল্যাটের তথ্য উল্লেখ না করে স্বামী ও স্ত্রীর নামে ৬৫ লাখ করে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ফ্ল্যাট বাবদ বুকিং দেখানো হয়েছে। তবে

জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা দিয়ে এই ফø্যাটটি কিনেছেন মনিরুজ্জামান

এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, চার কোটি টাকায় আগের ফ্ল্যাট বিক্রি করে এই ফ্ল্যাটটি কিনেছেন তিনি। কিন্তু ৩০ লাখ টাকার অভাবে এখনো ফ্ল্যাটটি রেজিষ্ট্রি করতে পারেননি। তাই আয়কর নথিতে দেখানো হয়নি।

২০০০ সালে চাচার থেকে ২১ লাখ টাকায় উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৩ নম্বর প্লটটি কেনেন মনিরুজ্জামান। যার মূল্য দলিলে দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। ২০০৩ সালে এক কোটি টাকা খরচ করে সেই জমিতে ছয় তলা বাড়ি করেন তিনি। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। তবে এই বাড়ির তথ্য দেখানো হয়নি আয়কর নথিতে।
উত্তরার বাড়ি বানানোর বছরই পূর্বাচলের ভোলানাথপুরে প্রায় ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যায়ে সরকার থেকে সাড়ে সাত কাঠা জমি বরাদ্দ নেন তিনি। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।

তবে রাজউক সংশ্লিষ্টরা জানান, সেসময় পাঁচ কাঠার বেশি প্লটগুলো ছিলো বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ। একজন কেবিন ক্রু হিসেবে মনিরুজ্জামানের সেই প্লট পাওয়ার কথা নয়।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম ব্লকে রয়েছে ১০ কাঠা একটি প্লট, যার মূল্য প্রায় ১২-১৫ কোটি টাকা। ২০০৫ সালে এই প্লটটি ৬৭ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন দাবি করলেও দলিলে দেখিয়েছেন ৪০ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে সময় বসুন্ধরার এম ব্লকে এক কাঠা জমির দামই ছিলো ৩০ লাখ টাকার বেশি। সেক্ষেত্রে ১০ কাঠা জমি কিনতে তিনি ব্যায় করেছেন প্রায় তিন কোটি টাকা। তবে এই জমির কোন তথ্য দেখানো হয়নি আয়কর বিবরনীতে।

ধানমন্ডির প্লাজা এ আর শপিং সেন্টারে এক কোটি টাকার অধিক মূল্যের একটি দোকান থাকলেও সেটি দেখানো হয়নি আয়কর বিবরনিতে।

আয়কর বিবরনীতে কৃষি জমির পরিমান দেখানো হয়েছে মাত্র দেড় লাখ টাকার। আর সেই জমি থেকে আয় দেখানো হয়েছে বছরে এক লাখ টাকা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে এবং টেকেরহাট এলাকায়ও রয়েছে বিপুল সম্পদ।

এছাড়া বাড়ি থেকে আয় দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৩৭ হাজার টাকা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয়তলা বাড়ি থেকে বছরে অন্তত ৩০ লাখ টাকা ভাড়া পান।

এছাড়া ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে মাত্র চল্লিশ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে বলে আয়কর বিবরনিতে উল্লেখ করেছেন মনিরুজ্জামান খান।
এই কর্মকর্তার তিন সন্তানের দুইজন ধানমন্ডির একটি অভিজাত ইংরেজী মাধ্যমে এবং একজন মালয়েশিয়ায় পড়াশুনা করছেন। বসবাস করছেন ধানমন্ডিতে। অথচ তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ২৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

তবে তিনি দাবি করেছেন, আয়কর বিবরনীতে সব তথ্যই দেয়া আছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ বি এম রওশন কবীর জানান, তার বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, সৎভাবে এতো সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব না। তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেয়া উচিত।

 

আরো পড়তে পারেন

শেখ সেলিমের ছায়ায় বিমানে ‘অঘোষিত সর্বেসর্বা’

বিমানের ‘সৎ কর্মকর্তার’ শতকোটি টাকার সম্পদ!

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নথিতে আড়াল বিমানের ডিজিএম’র বিপুল সম্পদ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক- ডিজিএম মনিরুজ্জামান খান। গোপালগঞ্জ বাড়ি, এই পরিচয় ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেছিলেন তিনি। তদবির বানিজ্য, চোরাচালান, ঠিকাদারি করে নিজের এবং বিমান ক্রু স্ত্রীর নামে গড়েছেন রাজধানীতে অঢেল সম্পদ। সরকার পরিবর্তনের পরেও এই কর্মকর্তার প্রভাব এতটুকুও কমেনি। আবার নিজেকে দাবি করেন ‘ বিমানের সৎ কর্মকতা’ হিসেবে। তাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ

তৃতীয় পর্ব।

ধানমন্ডিতে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট, উত্তরায় দুটি ছয়তলা বাড়ি, বসুন্ধরায় ১০ কাঠা জমি, পূর্বাচলে ৭.৫ কাঠা জমি আর ধানমন্ডির একটি শপিংমলে একটি দোকান। এসবই মাত্র দুই কোটি টাকা। শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এই অসাধ্য সাধন করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনিরুজ্জামান খান।

মনিরুজ্জামান খান ১৯৯৪ সালে কেবিন ক্রু হিসেবে যোগ দেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৮-০৯ সালের দিকে বিমানের ইতিহাস ভেঙে প্রশাসনিক পদে পদোন্নতি নেন মনিরুজ্জামান। একের পর এক পদোন্নতি নিয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে যান বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ডিজিএম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাঁকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগে বদলি করা হয়।

বদলির পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনিরুজ্জামানের তথ্য গোপনের প্রমাণ। চাকরী পাওয়ার মাত্র চার বছরের মাথায় ধানমন্ডি ৮-এ রোডে ২২ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনেন মনিরুজ্জামান। তবে দলিলে ২২ লাখ উল্লেখ করা হলেও এর দাম ছিলো এর কয়েকগুন বেশি।

মনিরুজ্জামানের দাবি, ২০১৭ সালে সেই ফ্ল্যাট বিক্রি করে ৯/এ-তে দুই কোটি টাকায় ২ হাজার ৭৫০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। ২০২২ সালে সেই ফ্ল্যাট তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে ধানমন্ডি ছয় নম্বরের ৩৫ নম্বর বাড়িতে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায় সাড়ে তিন হাজার স্কয়ারফিটের ফ্ল্যাট কেনেন মনিরুজ্জামান। তবে দলিলে উল্লেখ করেছেন মাত্র এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর আরকর নথিতে করেছেন আরো বড় লুকোচুরি। পুরো ফ্ল্যাটের তথ্য উল্লেখ না করে স্বামী ও স্ত্রীর নামে ৬৫ লাখ করে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ফ্ল্যাট বাবদ বুকিং দেখানো হয়েছে। তবে

জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা দিয়ে এই ফø্যাটটি কিনেছেন মনিরুজ্জামান

এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, চার কোটি টাকায় আগের ফ্ল্যাট বিক্রি করে এই ফ্ল্যাটটি কিনেছেন তিনি। কিন্তু ৩০ লাখ টাকার অভাবে এখনো ফ্ল্যাটটি রেজিষ্ট্রি করতে পারেননি। তাই আয়কর নথিতে দেখানো হয়নি।

২০০০ সালে চাচার থেকে ২১ লাখ টাকায় উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৩ নম্বর প্লটটি কেনেন মনিরুজ্জামান। যার মূল্য দলিলে দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। ২০০৩ সালে এক কোটি টাকা খরচ করে সেই জমিতে ছয় তলা বাড়ি করেন তিনি। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। তবে এই বাড়ির তথ্য দেখানো হয়নি আয়কর নথিতে।
উত্তরার বাড়ি বানানোর বছরই পূর্বাচলের ভোলানাথপুরে প্রায় ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যায়ে সরকার থেকে সাড়ে সাত কাঠা জমি বরাদ্দ নেন তিনি। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।

তবে রাজউক সংশ্লিষ্টরা জানান, সেসময় পাঁচ কাঠার বেশি প্লটগুলো ছিলো বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ। একজন কেবিন ক্রু হিসেবে মনিরুজ্জামানের সেই প্লট পাওয়ার কথা নয়।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম ব্লকে রয়েছে ১০ কাঠা একটি প্লট, যার মূল্য প্রায় ১২-১৫ কোটি টাকা। ২০০৫ সালে এই প্লটটি ৬৭ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন দাবি করলেও দলিলে দেখিয়েছেন ৪০ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে সময় বসুন্ধরার এম ব্লকে এক কাঠা জমির দামই ছিলো ৩০ লাখ টাকার বেশি। সেক্ষেত্রে ১০ কাঠা জমি কিনতে তিনি ব্যায় করেছেন প্রায় তিন কোটি টাকা। তবে এই জমির কোন তথ্য দেখানো হয়নি আয়কর বিবরনীতে।

ধানমন্ডির প্লাজা এ আর শপিং সেন্টারে এক কোটি টাকার অধিক মূল্যের একটি দোকান থাকলেও সেটি দেখানো হয়নি আয়কর বিবরনিতে।

আয়কর বিবরনীতে কৃষি জমির পরিমান দেখানো হয়েছে মাত্র দেড় লাখ টাকার। আর সেই জমি থেকে আয় দেখানো হয়েছে বছরে এক লাখ টাকা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে এবং টেকেরহাট এলাকায়ও রয়েছে বিপুল সম্পদ।

এছাড়া বাড়ি থেকে আয় দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৩৭ হাজার টাকা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয়তলা বাড়ি থেকে বছরে অন্তত ৩০ লাখ টাকা ভাড়া পান।

এছাড়া ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে মাত্র চল্লিশ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে বলে আয়কর বিবরনিতে উল্লেখ করেছেন মনিরুজ্জামান খান।
এই কর্মকর্তার তিন সন্তানের দুইজন ধানমন্ডির একটি অভিজাত ইংরেজী মাধ্যমে এবং একজন মালয়েশিয়ায় পড়াশুনা করছেন। বসবাস করছেন ধানমন্ডিতে। অথচ তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ২৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

তবে তিনি দাবি করেছেন, আয়কর বিবরনীতে সব তথ্যই দেয়া আছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ বি এম রওশন কবীর জানান, তার বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, সৎভাবে এতো সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব না। তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেয়া উচিত।

 

আরো পড়তে পারেন

শেখ সেলিমের ছায়ায় বিমানে ‘অঘোষিত সর্বেসর্বা’

বিমানের ‘সৎ কর্মকর্তার’ শতকোটি টাকার সম্পদ!