ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশে ১০-১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কমানো হবে: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 34

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ১০ থেকে ১৫টিতে সীমিত করা যথেষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা দুইটি রেখে বাকি ব্যাংকগুলো একীভূত (মার্জ) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গভর্নর এইচ মনসুর বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম ও পরিবারতন্ত্রের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। ব্যাংক সংখ্যা কমানো হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ বিদেশে গেছে। পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারও পাচার হয়েছে।” গভর্নর সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলার সুযোগ যেন না থাকে।

গভর্নর জানান, মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নেমে আসার আশা আছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ব্যাংক রেজ্যুলিউশন ফান্ড গঠন করছে, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এই তহবিল নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আওতায় আনা হবে।

ক্যাশলেস সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে তিনি বলেন, নগদ লেনদেন রাজস্ব ফাঁকির মূল কারণ। সঠিক ব্যবস্থায় বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। শিক্ষার্থীদেরও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার আহ্বান জানান গভর্নর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দেশে ১০-১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কমানো হবে: গভর্নর

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ১০ থেকে ১৫টিতে সীমিত করা যথেষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা দুইটি রেখে বাকি ব্যাংকগুলো একীভূত (মার্জ) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গভর্নর এইচ মনসুর বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম ও পরিবারতন্ত্রের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। ব্যাংক সংখ্যা কমানো হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ বিদেশে গেছে। পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারও পাচার হয়েছে।” গভর্নর সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলার সুযোগ যেন না থাকে।

গভর্নর জানান, মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নেমে আসার আশা আছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ব্যাংক রেজ্যুলিউশন ফান্ড গঠন করছে, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এই তহবিল নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আওতায় আনা হবে।

ক্যাশলেস সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে তিনি বলেন, নগদ লেনদেন রাজস্ব ফাঁকির মূল কারণ। সঠিক ব্যবস্থায় বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। শিক্ষার্থীদেরও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার আহ্বান জানান গভর্নর।