অজিত দোভাল
দুর্বল শাসন কাঠামোই বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের কারণ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 128
দুর্বল শাসনব্যবস্থাই বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
তিনি বলেন, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো অনেক সময় একটি দেশের সরকারের পতন ডেকে আনে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায়—অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পেছনেও এমন দুর্বল শাসন কাঠামোর ভূমিকা রয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় ঐক্য দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দোভাল বলেন, “কার্যকর শাসনব্যবস্থাই রাষ্ট্র গঠনের মূলভিত্তি, যা জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।”
দোভালের ভাষায়, “রাষ্ট্রের শক্তি নিহিত থাকে তার শাসন কাঠামোয়। সরকার যখন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কাজ করে, তখন জাতি গঠনের মূল দায়িত্ব পালন করেন সেই ব্যক্তিরা, যারা এসব প্রতিষ্ঠানকে তৈরি ও লালন করেন।”
তিনি বলেন, “আজকের প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট রাখা। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তাই রাষ্ট্রকেও নাগরিক প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়।”
দোভাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসন মডেল প্রশংসা করে বলেন, “ভারত এখন নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে—একটি আধুনিক শাসনব্যবস্থা, সামাজিক কাঠামো এবং বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে। বর্তমান সরকার প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এনেছে, তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামনে আরও পদক্ষেপ আসতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “যখন পরিবর্তন আসে, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লক্ষ্য পরিষ্কার রাখা। চ্যালেঞ্জ ও বিভ্রান্তির মধ্যেও রাষ্ট্র যেন তার পথ হারায় না।”
ভালো শাসনের উপাদান হিসেবে নারীর নিরাপত্তা, সমতা ও ক্ষমতায়নকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। দোভালের মতে, “শুধু ভালো আইন করলেই হবে না—এই আইন ও নীতিগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সুশাসনের আসল লক্ষ্য।”
এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “প্রযুক্তি এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে শাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসেবার দক্ষতা বাড়ে। তবে একইসঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর হুমকি, বিশেষ করে সাইবার আক্রমণ থেকেও রাষ্ট্র ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।”





































