দুই যুবককে লাঠি ও প্লাস দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 71
বান্দরবানে চুরির অভিযোগে দুই যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে সাতজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত রবিবার (২৬ অক্টোবর) বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গোয়ালিয়াখোলা রোয়াজাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগীর বাবা আহমদ হোসেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন—১নং ইউপি সদস্য মো: শহিদুল ইসলাম (৩৬), ইছহাক (৫৮), শহিদুল ইসলাম (২৮), শাহ আলম (৬০), ওসমান (৪৫), সুজন (৩০) ও জিকু (২১)। তারা সবাই বান্দরবান সদর উপজেলার গোয়ালিয়াখোলা এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবককে হাত-পা বেধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন সদর ১নং ইউপি সদস্য মো: শহিদুল ইসলাম। ভিডিওতে উচ্চস্বরে বলা হচ্ছে—“আর চুরি করবি।” ভিডিওতে দেখা যায়, চোরের হাতের আঙুলের নক প্লাস (ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ) উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। অপরজনও চোরকে নক তোলার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বান্দরবান সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়েছে। প্রতিটি গ্রাম থেকে পশু, মুরগি ও কখনও কখনও গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হয়। এর আগে এই দুই যুবক মদ্যপান করে মুরগী চুরি করেছিল এবং এলাকাবাসীর হাতে আটক হয়েছিল।
ভুক্তভোগীর বাবা আহমদ হোসেন বলেন, “কোনও প্রমাণ ছাড়াই ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুলসহ তার সহযোগীরা বিচার করার নামে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। তাদেরকে আদালতে তুলে দেওয়া যেত, কিন্তু তারা বর্বরভাবে নির্যাতন করেছে।”
অভিযুক্ত ১নং ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, “গ্রামের মানুষজন টাকা ও পশু চুরি করছিল। প্লাস দিয়ে কোনো আঘাত করা হয়নি, শুধু ভয় দেখানো হয়েছিল। তবে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে।”
২নং ইউপি সদস্য শৈসিং মারমা বলেন, “আটককৃতদের শুধু ভয় দেখানোর জন্য প্লাস দেখানো হয়েছে। তারা বহুদিন ধরে গ্রামে চুরি করছিল।”
মামলার আইনজীবি এ্যাডভোকেট আনোয়ার বলেন, “বিচারের নামে লাঠি ও প্লাস দিয়ে নক আঘাত করা নির্মম ও গ্রহণযোগ্য নয়। যদি তারা চুরি করে থাকে, পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল।”
বান্দরবান সদর থানার এসআই বোরহান উদ্দিন জানান, চুরির অভিযোগে দুজনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মারধর অতিরিক্ত হয়েছে, এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।”


































