ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • / 144

দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে পাথর শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ করেছেন পাথর শ্রমিকরা। শনিবার (১৪ জুন) সকাল পৌনে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভের মুখে পড়া উপদেষ্টারা হলেন—পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে জাফলং ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) পরিদর্শনে যান উপদেষ্টারা। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তারা জানান, পরিবেশ রক্ষায় জাফলংয়ের পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং এর ফলে অনেক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তাদের এমন বক্তব্য শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় শ্রমিকরা। পরে তাঁরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে উপদেষ্টাদের গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন উপদেষ্টারা। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উপদেষ্টাদের নিরাপদে সরিয়ে নেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, তাঁরা আশা করেছিলেন, ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে যাবেন উপদেষ্টারা। কিন্তু বাস্তবে সেটির বিপরীত ঘটেছে। তাঁরা বলেন, ‘আমরা ভাত-কাপড়ের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমাদের পাঁচ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে। দালালদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে উপদেষ্টারা শ্রমিকদের পক্ষে কোনো ঘোষণা না দিয়ে চলে গেছেন।’

ব্রিফিংয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের পরিবেশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অবৈধ ক্রাশারগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।”

অন্যদিকে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সিলেটের আর কোনো পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে না। জাফলংকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তবে গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, “গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়নি, বরং শ্রমিকরা পাথর কোয়ারি খোলার দাবি জানাতে এসেছিলেন। সেখানে সাংবাদিকরাও ছিলেন।”

ঘটনার সময় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোহাম্মদ রেজা উন-নবী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ করেছেন পাথর শ্রমিকরা। শনিবার (১৪ জুন) সকাল পৌনে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভের মুখে পড়া উপদেষ্টারা হলেন—পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে জাফলং ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) পরিদর্শনে যান উপদেষ্টারা। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তারা জানান, পরিবেশ রক্ষায় জাফলংয়ের পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং এর ফলে অনেক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তাদের এমন বক্তব্য শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় শ্রমিকরা। পরে তাঁরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে উপদেষ্টাদের গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন উপদেষ্টারা। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উপদেষ্টাদের নিরাপদে সরিয়ে নেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, তাঁরা আশা করেছিলেন, ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে যাবেন উপদেষ্টারা। কিন্তু বাস্তবে সেটির বিপরীত ঘটেছে। তাঁরা বলেন, ‘আমরা ভাত-কাপড়ের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমাদের পাঁচ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে। দালালদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে উপদেষ্টারা শ্রমিকদের পক্ষে কোনো ঘোষণা না দিয়ে চলে গেছেন।’

ব্রিফিংয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের পরিবেশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অবৈধ ক্রাশারগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।”

অন্যদিকে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সিলেটের আর কোনো পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে না। জাফলংকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তবে গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, “গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়নি, বরং শ্রমিকরা পাথর কোয়ারি খোলার দাবি জানাতে এসেছিলেন। সেখানে সাংবাদিকরাও ছিলেন।”

ঘটনার সময় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোহাম্মদ রেজা উন-নবী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।