ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীঘিনালার কামারদের ঈদের লৌহকাব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, দীঘিনালা
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
  • / 720

দীঘিনালার কামারদের ঈদের লৌহকাব্য

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী নতুন বাজার যেন এখন রূপ নিয়েছে কামারশালায়। এ যেন এক লৌহকাব্য। ঈদুল আযহার কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রতিটি কামার দোকান এখন টুং-টাং শব্দে মুখরিত। ভোরের কাক ডাকার সাথে সাথেই শুরু হয় কামারদের কর্মযজ্ঞ, চলে গভীর রাত অবধি। কেউ পেটাচ্ছেন লোহা, কেউ শান দিচ্ছেন মরিচ পোড়া দা, ছুরি, চাপাতিতে। হাপর টানার ছন্দে আর হাতুড়ির ঝাঁজে বেজে উঠছে ঈদের প্রস্তুতির গান।

কামাররা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে দিনরাত খেটে সারা বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে চাই। তবে এবারে নতুন হাতিয়ার বিক্রির তুলনায় পুরাতন দা-ছুরি শান দেওয়া ও মেরামতের কাজই বেশি। এসব কাজের জন্য খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

একজন কামার বলেন, “এই একটা সময়েই আমরা বেশি কাজ পাই। তাই খাওয়া-দাওয়া ভুলে আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করি। সারা বছর যা রোজগার হয় না, এই ক’দিনে তা পুষিয়ে নিতে পারি।”

দোকানগুলোর সামনে লাইন ধরেছে গ্রাহকদের। কেউ নিজের হাতিয়ারে শান দিতে এসেছেন, কেউ আবার নতুন একটি দা কিনে বাড়ি ফিরছেন খুশি মনে। এই ঈদ শুধু কোরবানির উৎসব নয়, এটি কামার শিল্পীদের জন্যও রোজগারের উৎসব।
অনেক কামার জানালেন, চাহিদা বেশি থাকায় শ্রমিকের অভাবও দেখা দিচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেল, আলু মিষ্টি দেখা যাচ্ছে হাতুড়ি হাতে বড়দের সঙ্গে কাজে ব্যস্ত। লোকশিল্প আর ঘাম—দুইয়ে মিলে দীঘিনালার কামাররা গড়ছেন এবারের ঈদের লৌহকাব্য।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দীঘিনালার কামারদের ঈদের লৌহকাব্য

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী নতুন বাজার যেন এখন রূপ নিয়েছে কামারশালায়। এ যেন এক লৌহকাব্য। ঈদুল আযহার কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রতিটি কামার দোকান এখন টুং-টাং শব্দে মুখরিত। ভোরের কাক ডাকার সাথে সাথেই শুরু হয় কামারদের কর্মযজ্ঞ, চলে গভীর রাত অবধি। কেউ পেটাচ্ছেন লোহা, কেউ শান দিচ্ছেন মরিচ পোড়া দা, ছুরি, চাপাতিতে। হাপর টানার ছন্দে আর হাতুড়ির ঝাঁজে বেজে উঠছে ঈদের প্রস্তুতির গান।

কামাররা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে দিনরাত খেটে সারা বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে চাই। তবে এবারে নতুন হাতিয়ার বিক্রির তুলনায় পুরাতন দা-ছুরি শান দেওয়া ও মেরামতের কাজই বেশি। এসব কাজের জন্য খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

একজন কামার বলেন, “এই একটা সময়েই আমরা বেশি কাজ পাই। তাই খাওয়া-দাওয়া ভুলে আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করি। সারা বছর যা রোজগার হয় না, এই ক’দিনে তা পুষিয়ে নিতে পারি।”

দোকানগুলোর সামনে লাইন ধরেছে গ্রাহকদের। কেউ নিজের হাতিয়ারে শান দিতে এসেছেন, কেউ আবার নতুন একটি দা কিনে বাড়ি ফিরছেন খুশি মনে। এই ঈদ শুধু কোরবানির উৎসব নয়, এটি কামার শিল্পীদের জন্যও রোজগারের উৎসব।
অনেক কামার জানালেন, চাহিদা বেশি থাকায় শ্রমিকের অভাবও দেখা দিচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেল, আলু মিষ্টি দেখা যাচ্ছে হাতুড়ি হাতে বড়দের সঙ্গে কাজে ব্যস্ত। লোকশিল্প আর ঘাম—দুইয়ে মিলে দীঘিনালার কামাররা গড়ছেন এবারের ঈদের লৌহকাব্য।