দিলীপ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
- / 79
স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় আগরওয়ালার বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও মূল্যবান পাথর চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক কার্যক্রম, নথি ও ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয় করেছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ১৭ নভেম্বর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) অসীম উদ্দিন খান জানান, ৫৭ বছর বয়সী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড পরিচালনার আড়ালে দেশে–বিদেশে স্বর্ণ ও হীরার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে অবৈধ লেনদেন ও চোরাচালান করতেন।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অন্যান্য সামগ্রী বৈধভাবে আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে স্থানীয় বাজার বা বিনিময় পদ্ধতিতে ৬৭৮ কোটি টাকার বেশি স্বর্ণ ও হীরা কেনা হয়, কিন্তু সেসব সামগ্রীর উৎস সম্পর্কে কোনো বৈধ দালিলিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, উল্লেখিত সম্পদের বড় অংশই অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছে।
সিআইডির মুখপাত্র আরও জানান, চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও সে অর্থের লেনদেন–সংক্রান্ত নথিগুলো বিশ্লেষণ করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে এই অনুসন্ধান প্রতিবেদন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির কাছে পাঠানো হয় এবং ১৬ নভেম্বর মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
গুলশান থানায় দায়ের করা মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় পুরো তদন্ত সিআইডিই পরিচালনা করবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিস্তারিত তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।




































